সাউথগেটের অধীনে ইংল্যান্ডের সেরা দশ অভিষেক

২০১৮ বিশ্বকাপের আগে শেষবার কবে বিশ্বকাপের সেমিতে জায়গা পেয়েছিল থ্রি লায়ন্সরা তা জানতে রীতিমত ইতিহাসের খাতা খুলতে হবে । ২০১৪  বিশ্বকাপ এবং ২০১৬ ইউরো দুই জায়গাতেই ব্যর্থতার পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে দলের দায়িত্ব নেন গ্যারেথ সাউথগেট। দলের দায়িত্ব নেবার পর থেকেই ভক্ত এবং ড্রেসিংরুম দুইই জয় করেছেন সাবেক এই খেলোয়াড়। দলে নিয়মিতভাবে জায়গা পেয়েছেন তরুণরা। ইংল্যান্ডে যখন গোলরক্ষক সংকট চরমে তখন প্রতিটি ক্লাবের কাছে তিনি অনুরোধ করেছিলেন তরুণ গোলরক্ষক তৈরির জন্যে। দেখে নিন সাউথগেটের বদলে দেয়া ইংল্যান্ডে অভিষিক্ত দশ তরুণের গল্প

ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট; Image Source – Gettyimages

১০. রুবেন লোফটাস-চেক

বিশ্বকাপে ডেলে আলির ইনজুরির পর রুবেন লোফটাস চেকের উপর বেশ ভালভাবেই নজর দিয়েছিলেন গ্যারেথ সাউথগেট। বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে এমন তরুণের উপর ভরসা রাখা রীতিমতো বাজিই ছিল। যদিও খুব বেশি কিছু করা হয়নি রুবেনের। এমনকি ক্লাবেও খুব বেশি আস্থার প্রতিদান দেয়া হয়নি। ২৯ বার মাঠে নেমে রুবেন করেছেন ৬ গোল আর করিয়েছেন মাত্র দুটি।

রুবেন লোফটাস চেক; Image Source – Gettyimages

তবে সময়ের সাথে সাথে দ্রুতই মাঠের পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করেছেন রুবেন। ২৩ বছর বয়সী এই ইংলিশম্যান যদিও খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না মাঠে। যা সাউথগেটের কপালে খানিক হলেও চিন্তার ছাপ ফেলবে।

৯. কলাম উইলসন

ওয়েন রুনি যুগে ইংল্যান্ডের বড় ভাবনার নাম ছিল রুনির উত্তরসূরি কে হবেন। তবে হ্যারি কেন, রাহিম স্টার্লিং এবং ডেলে আলির মত স্কোরাররা বেশ ভালোভাবেই সেই ভাবনা দূরে সরিয়ে রেখেচেন বিগত দুই বছর। কিন্তু সামনের দিনগুলোয় আর যেন স্টারিকার সংকটে পড়তে না হয় সেদিকেও সচেতন বর্তমান ইংলিশ কোচ। এরই ধারাবাহিক চেষ্টায় গত নভেম্বরে অভিষেক ঘটে বোর্নমাউথের স্ট্রাইকার কলাম উইলসনের। প্রথম ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জালের ঠিকানা পাওয়া উইলসন ক্লাবের হয়েও কাটিয়েছেন বেশ ভালো একটি মৌসুম।

গোলের পর উল্লাসিত উইলসন; Image Source – Gettyimages

ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের বড় ক্লাবের নজরে থাকা উইলসন গ্রীষ্মের দলবদলে তো বটেই সামনের দিনগুলোতে ইংলিশ ফুটবলেও বড় নাম হয়ে উঠতে পারেন। মৌসুমে ৩০ ম্যাচে ৯ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি করেছেন সর্বমোট ১৪ গোল।

৮. বেন চিলওয়েল

বিশ্বকাপের পরপরই দলগত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডের সাদা জার্সিতে অভিষেক হয় লেস্টার সিটি ডিফেন্ডার বেন চিলওয়েলের। বিশ্বকাপে ৩-৫-২ ফর্মেশনে খেলা ইংল্যান্ড নেশন্স লিগে এসে খেলতে শুরু করে ৩-৪-৩ ফর্মেশনে। আর তাতেই কপাল খুলে যায় চিলওয়েলের।

লেস্টার তারকা বেন চিলওয়েল ; Image Source – Gettyimages

নেশন্স লিগে স্পেন এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা লেফটব্যাক চিলওয়েল নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই খুলেছেন অ্যাসিস্টের খাতা। ইংলিশ এই ডিফেন্ডার সামনের দিনগুলোতে আরো দারুন কিছুই উজার করে দিতে পারেন সাউথগেটের অধীনে। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চিলওয়েল করেছেন ৪ অ্যাসিস্ট।

৭. ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড

লিভারপুলের এই তরুণ ডিফেন্ডারের নাম এখন সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তদের মুখে মুখে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে আর্নল্ডের দুই অ্যাসিস্ট লিভারপুলকে টানা ২য়বার নিয়ে গিয়েছে ইউরোপ সেরার ফাইনাল মঞ্চে। পুরো মৌসুমে ডিফেন্ডার সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টেও নিজের নাম লিখেছেন টিএএ।

উড়তে থাকা ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ড; Image Source – Gettyimages

রাইট ব্যাক হিসেবে কাইল ওয়াকারের বাড়তে থাকা বয়সের ভিড়ে বেশ উজ্জ্বল আলেকজান্ডার আর্নল্ড। চলতি বছরের নেশন্স কাপের সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের মঞ্চে হয়ত কাইল ওয়াকারের বিপরীতে লিভারপুলের এই তরুণই মাঠে নামবেন থ্রি লায়ন্সের জার্সিতে। 

৬. জো গোমেজ

মৌসুমের শুরুর দিকে ভার্জিল ভ্যান ডিকের সাথে রীতিমতো দেয়াল হয়ে ছিলেন তরুণ জো গোমেজ। নিঁখুত মার্কিং, কড়া ট্যাকেল, ওয়ান টু ওয়ান পজিশনে দুরন্ত গতি সব মিলিয়ে ইংল্যন্ডের সাদা জার্সিতে বেশ আলো ছড়ানোর ক্ষমতা নিয়েই অভিষেক ঘটে জো গোমেজের। যদিও ইনজুরির জন্য বিশ্বকাপে অংশ নেয়া হয়নি তার। হাতছাড়া হয়েছে লিগের বড় একটি সময়। তবুও অভিষেকেই ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরষ্কার পাওয়া জো গোমেজের সামনে সুযোগ থাকছে সাউথগেটের দলে দারুন এক প্রত্যাবর্তন ঘটাবার।

বিশ্বকাপে জো গোমেজ; Image Source – times of india

৫. জেডন সানচো

১১ গোল আর ১৪ অ্যাসিস্টে জার্মান বুন্দেসলীগায় রীতিমতো উড়ছেন জেডন সানচো। ম্যানচেস্টার সিটি একাডেমির এই খেলোয়াড় প্রথম আলো ছড়ান অনুর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপে। সতীর্থ ফিল ফোডেন ম্যানচেস্টার সিটির মূল দলের বেঞ্চে বসে বড় এক সময় কাটালেও বুন্দেসলীগায় নিয়মিত মাঠে নেমেছেন জেডন সানচো।

এ বছরের বড় তারকা জেডন সানচো; image source – sports360

লিগে এখন দুইয়ে থাকলেও মৌসুম শেষে বড় ক্লাবের রাডারে ঠিকই চলে আসতে পারেন জেডন সানচো। আসতে পারেন সাউথগেটের নজরেও। নেশন্স লিগের ফাইনাল পর্বে তার দলে নামা অনেকাংশে নিশ্চিত বলে এখনই ধরে নেয়া যায়।

৪. জেসে লিনগার্ড

লিনগার্ড যে বর্তমান ইংল্যান্ডের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের একজন সে নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ চলে না। যদিও সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মত তার ফর্মও ছিল পড়তির দিকে। তবে লিনগার্ড এর নৈপুণ্যে বেশ অনেকবারই ম্যাচের মোড়ও ঘুরিয়েছে রেড ডেভিলরা।

আগামী ইংল্যান্ডের ভরসা লিনগার্ড; Image source – skysports

বিশ্বকাপে পানামার বিপক্ষে তার গোল লিনগার্ডের থ্রি লায়ন্সের জার্সিতে বড় কিছুর ইঙ্গিত বেশ ভালভাবেই দিয়ে রেখেছে।

৩. জর্ডান পিকফোর্ড

কখনোই টাইব্রেকে না জেতা দলটিকে প্রথমবার টাইব্রেক থেকে বাঁচিয়েছেন। সেমিফাইনালে বিদায় নিলেও তার চোখ ধাঁধানো সব সেইভ মুগ্ধ করেছে গোটা বিশ্বকে। গোলরক্ষকের নাম জর্ডান পিকফোর্ড। ইংলিশ লিগের বিগ সিক্স নয়, খেলছেন মাঝারি সারির দল এভারটনে। ২০১৭ সালে অভিষেকের পর থেকে পিকফোর্ডই সামলাচ্ছেন ইংল্যান্ডের গোলবার। তার বল প্লেয়িং এবং দ্রুত রিফ্লেক্স বেশ অনেকটা দিন নিশ্চিন্ত রাখবে ইংল্যান্ডকে।

জর্ডান পিকফোর্ড; Image source – skysports

এই মৌসুমে এভারটনের হয়ে নেমেছেন সবকটি লিগ ম্যাচে। ৩৮ ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছেন ১৪ ম্যাচে। ৫টি পেনাল্টিতে মুখোমুখি হয়ে ফিরিয়েছেন ৩টি পেনাল্টি। মৌসুম শেষ করেছেন প্রায় ৭ এর কাছাকাছি রেটিং নিয়ে।

২. কিয়েরান ট্রিপিয়ের

দল এরইমাঝে চলে গিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। দলের সাথে মাদ্রিদের ফ্লাইটে তিনিও হয়ত উঠবেন। তার একাদশে থাকার সম্ভাবনা বেশ ভালভাবেই আছে। টটেনহ্যামের ২ নাম্বার জার্সিধারী এই ডিফেন্ডার চলতি মৌসুমে মাঠে নেমেছেন ২৭ বার। ১ গোলের সাথে ছিল ৩ অ্যাসিস্ট। প্রায় ৫৫% সফল ট্যাকেল আর ৮০% পাসিং এর জন্য মৌসুমের শেষে ভালো একটা অবস্থানেই আছেন ট্রিপিয়ের।

ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার কিয়েরান ট্রিপিয়ের; Image source – skysports

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েটদের বিপক্ষে তার ফ্রিকিক গোলটিই তাকে থ্রি লায়ন্স জার্সিতে মনে রাখার জন্য যথেষ্ট। এক পর্যায়ে তার গোলটিই ইংল্যান্ডে ফাইনালে নেবার জন্য যথেষ্ট মনে হচ্ছিলো। কিন্তু সেই দিনটি ইংল্যান্ডের ছিল না, ছিল না কিয়েরান ট্রিপিয়েররও।   

১. হ্যারি মিগুয়ের

লেস্টার সিটি এবারের লিগে নবম হয়ে শেষ করলেও ভার্ডি আর ম্যাডিসনের পাশাপাশি আরেকজন কেড়ে নিয়েছেন সব আলো। তিনি হ্যারি মিগুয়ের। ডিফেন্ডার হয়েও ৮৬% পাসিং, ৫২ শতাংশ শট অন টার্গেট এবং ১৫২ ক্লিয়ারেন্স প্রমাণ করেন ইংল্যান্ডের রক্ষণে তার অপরিহার্যতা। চলতি মৌসুমে ৩১ বার মাঠে নেমেছেন লেস্টারের এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ড জার্সিতে হ্যারি মিগুয়ের; Image source – skysports

২০১৭ সালে অভিষেকের পর থেকে আছেন সাউথগেটের ভরসার প্রতীক হয়ে। জন টেরির পর দীর্ঘদিন ইংলিশ টিমকে সার্ভিস দেয়ার ক্ষমতা এরইমাঝে জানান দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে তার খেলাটি বিশ্বকাপেই সেরা ডিফেন্সিভ পারফর্ম বলে মেনে নিচ্ছেন অনেকে।

Feature Image – esquire.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *