দলবদলের গুঞ্জনে লাভবান হয়েছেন যে সকল তারকা ফুটবলার

প্রতি বছর অনুষ্ঠিত দুটি দলবদল মৌসুমে খেলোয়াড় কেনাবেচা করে ঘরোয়া লিগের দলগুলো। প্রত্যক্ষভাবে আমরা দলবদলে শুধুমাত্র খেলোয়াড় কেনাবেচাই দেখি। কিন্তু প্রতিবার এই দুটি দলবদল মৌসুম পরোক্ষভাবে বিভিন্ন খেলোয়াড়ের বেতনভাতা বৃদ্ধি করে চুক্তি নবায়নে সাহায্য করে। আর এটি মূলত ধাপে ধাপে সংঘটিত হয়। দলবদলের সুযোগ নিয়ে লাভবান হওয়া খেলোয়াড়েরা হার নেহাতই কম নয়। চলুন জানা যাক কিভাবে খোলোয়াড়েরা দলবদল মৌসুমের সুযোগ কাজে লাগায়।

দলবদল বাজার; Image Source: T/W

যখন মৌসুমের শুরু থেকে শেষ অবধি কোনো খেলোয়াড় বেশ ভালো পারফরম্যান্স করেন, তখন সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে বিভিন্ন দল সেই সব খেলোয়াড়দের কেনার জন্য তৎপরতা দেখায়। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন দলগুলো সেসব খেলোয়াড়দের বিক্রি করলে দলগুলো মোটা অঙ্কের অর্থ পেতে পারে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন দলে কোনো কোনো খেলোয়াড়ের গুরুত্ব শত মিলিয়নের থেকেও বেশি। কারণ তারকা খেলোয়াড়দের কেন্দ্র করেই বড় দলগুলো একাদশ সাজায়। আর সেক্ষেত্রে কোনো দলই চায়না তাদের সেরা খেলোয়াড়কে হাতছাড়া করতে।

দলবদলের সংবাদ; Image Source: SportingLife

দলগুলোর এমন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে খেলোয়াড়রা নিজেদের এজেন্টের কল্যাণে বেতনভাতা বৃদ্ধি করে নেন। এতে করে বিপাকে পড়লেও কখনো কখনো কিছুই করার থাকেনা বড় দলগুলোর। কারণ তারকা ফুটবলাররাই দলের সফলতা এনে দেয় যার কল্যাণে ফ্র্যাঞ্চাইজি শত শত মিলিয়ন অর্থ আয় করে। আজকে আলোচনা করা হলো এমনই কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলারদের নিয়ে, যারা দলবদল মৌসুমে অন্য দলের প্রস্তাবের কল্যাণে নিজেদের বেতনভাতা বৃদ্ধি করেন যা সংবাদপত্রে বেশ আলোচিত হয়।

স্টিভেন জেরার্ড

লিভারপুলের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার স্টিভেন জেরার্ড তার লয়্যালিটির জন্য ফুটবল ইতিহাসে বেশ খ্যাতি পেয়েছেন। কিন্তু লিভারপুলের হয়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের প্রধান সময়গুলোতে বেশ কয়েকবার বিতর্কিতও হন। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ২০০৫ সালে। সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পর জেরার্ডকে দলে নিতে উঠেপড়ে লাগে ইউরোপীয় দলগুলো। শেষপর্যন্ত তিনি চেলসির সঙ্গে মৌখিক চুক্তি সেরে ফেলছেন এমনও গুঞ্জন রটে। আর এতে রাগান্বিত হয়ে লিভারপুলের ট্রেনিং গ্রাউন্ডের পাশে তার জার্সি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানায় কয়েকজন ভক্ত।

স্টিভেন জেরার্ড; Image Source: Goal

কিন্তু সেবারের দলবদলে তাকে নিয়ে বড় দলগুলোর টানাটানি বেশ কাজে দেয়। লিভারপুল কর্তৃপক্ষ তাকে দলে রাখতে চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব দেয়। নতুন চুক্তি অনুসারে জেরার্ডের সাপ্তাহিক আয় দাড়ায় ১৩০,০০০ ইউরো। যদিও কিছুদিন পর তার এজেন্ট জানায় কখনোই দল ছাড়ার কথা ভাবেননি তিনি। সেই হিসেবে বুঝতে বাকি রইলোনা যে, দলবদল মৌসুমে অন্য দলের আগ্রহ তার চুক্তি নবায়নে সাহায্য করেছিলো।

ফ্রান্সিসকো টট্টি

শৈশবের দলের প্রতি লয়্যালিটির আরেকটি উদাহরণ ইতালি এবং রোমের শেষ সম্রাট খ্যাত ফ্রান্সিসকো টট্টি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ অবধি তিনি রোমাতেই কাটিয়েছেন। জীবনের সেরা ফর্মে থাকা অবস্থায় বার্সেলোনা, চেলসি ও লিভারপুলের মতো দলের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন টট্টি।

ফ্রান্সিসকো টট্টি; Image Source: Goal

কিন্তু ২০০৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের নজরে পড়ায় বেশ বিপাকে পড়েন টট্টি। দলবদলের বাজারে সর্বোচ্চ দামী খেলোয়াড়দের তখন দলে ভেড়াতেন পেরেজ। একমাত্র টট্টির ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হন তিনি। যদিও রিয়ালের এমন টানা হ্যাঁচড়া দেখে তাকে নতুন করে চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব দেয় রোমা। ফ্রান্সিসকো টট্টি সেটিকে সাদরে গ্রহণ করে রোমাতেই থেকে যান।

নেইমার জুনিয়র

ফুটবল বিশ্বে বরাবরই আলোচনা এবং সমালোচনা তৈরি করে যাচ্ছেন নেইমার। রিয়ালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাকে দলে ভেড়ানোর পর দলে ধরে রাখা নিয়েও বেশ কয়েকবার বিপাকে পড়ে বার্সেলোনা। যদিও নেইমার ইতোমধ্যেই বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি জড়িয়েছেন। তবুও বার্সায় থাকাকালীন সময়ে দলবদলের গুঞ্জন তার বেতন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

নেইমার জুনিয়র; Image Source: Goal

২০১৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পর নেইমার দলবদলের বাজারে বেশ সাড়া জাগান। সেবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তার জন্য ১৭৩ মিলিয়নের প্রস্তাব দেয়। সংবাদমাধ্যমে যখন এই গুঞ্জনটি ছড়িয়ে পড়ে ঠিক তখনি তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে বার্সেলোনা। এতে করে তৃতীয় সর্বোচ্চ বেতন ভুক্ত ফুটবলার হিসেবে রেকর্ডবুকে নাম লেখান নেইমার।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পর বার্সেলোনা যখন নেইমার এবং মেসির চুক্তি নবায়ন করে তখন নড়েচড়ে বসেন রোনালদোর এজেন্ট জর্জ মেন্ডিস। রিয়াল মাদ্রিদ তখন চুক্তি নবায়নে অস্বীকৃতি জানায়। এতে করে জনাব মেন্ডিস বিভিন্ন দল থেকে রোনালদোর জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব পেতে থাকেন। তবে সব গুঞ্জনকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় রোনালদোর পিএসজিতে যোগ দেয়ার সংবাদটি।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো; Image Source: Goal

শুধু তাই নয়, পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচে দলটির কোচও রোনালদোর যোগদানের ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন। এতে করে টনক নড়ে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের। তারা রোনালদোর বেতন বৃদ্ধি করে ২৫ মিলিয়ন নির্ধারণ করেন। আর এই চুক্তি নবায়নের পর সকল নাটকের অবসান ঘটে।

লিওনেল মেসি

ওয়ান ক্লাব ম্যান খ্যাত বার্সেলোনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি এই যুগে সর্বাধিকবার চুক্তি নবায়ন করা ফুটবলার। মেসি বার্সেলোনার সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তির পর যতবার চুক্তি নবায়ন করেছেন তা এই যুগের অন্য কোনো খেলোয়াড় করেননি। যদিও প্রতিবার বার্সেলোনাই তাকে স্বইচ্ছায় চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব করে। কিন্তু ২০১৭ সালে চিত্রটা ছিলো ভিন্ন। গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেয়ার পর মেসিকে দলে নেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার প্রস্তাব পাঠান।

লিও মেসি; Image Source: Goal

মূলত দুই দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো কথাবার্তা না হলেও তিলকে তালে পরিণত করে ইংরেজ সংবাদপত্রগুলো। অতঃপর বার্সেলোনা মেসিকে ৫০ মিলিয়ন ইউরো বাৎসরিক বেতনে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেয়। এতে করে মেসি ইউরোপের সর্বোচ্চ বেতনভোগী ফুটবলারের খেতাব অর্জন করেন। বার্সেলোনা বরাবরই তার প্রতি সদয় দৃষ্টি দিয়ে আসলেও সেবার ম্যানসিটির প্রস্তাবেন কল্যাণে চুক্তি নবায়নের সুবর্ণ সুযোগ পান।

Featured Image: Goal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *