পাকিস্তানকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ক্যারিবিয়ানদের

গতকাল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে এক প্রকার উড়িয়েই দিয়েছে উইন্ডিজ বোলাররা। ওশান থমাস, জেসন হোল্ডার ও আন্দ্রে রাসেলের গতি ও বাউন্সের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। এই সুবাদে মাত্র ১০৫ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান যা বিশ্বকাপ ক্রিকেট ইতিহাসে তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। অপরদিকে সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ক্রিস গেইলের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে খুব সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবং এ হারে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে টানা ১১তম ম্যাচে হারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলো পাকিস্তান।

Image Source: ESPNcricinfo

ম্যাচ বিবরণী

শুক্রবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসেন ইমাম উল হক ও ফখর জামান। এবং বোলিং আক্রমণে আসেন সেলডন কটরেল।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই পাকিস্তান ব্যাটিং শিবিরে আঘাত হানেন কটরেল। ওভারের শেষ বলে লেগ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকটরক্ষক শেই হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমাম উল হক। তিনি ১৫ বল খেলে মাত্র ২ রান করেন। এরপর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসেন বাবর আজম।

সেলডন কটরেল; Image Source: The Independent

ষষ্ঠ ওভারে বোলিং আক্রমণে আসেন আন্দ্রে রাসেল। বোলিংয়ে এসে ব্যক্তিগত প্রথম ওভারেই পাকিস্তানের ব্যাটিং শিবিরে আঘাত হানেন তিনি। শর্ট বলে পুল করতে চেয়েছিলেন ফখর জামান। ব্যাটে বলে সংযোগ না হওয়ায় বলটি সরাসরি হেলমেটে লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। এতে করে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ফখর জামান। আউট হবার আগে ১৬ বল খেলে ২টি চার ও ১টি ছয়ে ২২ রান করেন তিনি।

এরপর দলের হাল ধরতে উইকেটে আসেন হারিস সোহেল। কিন্তু তিনিও দলের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হন। দশম ওভারে আন্দ্রে রাসেলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। দলীয় স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৪৫ রান।

Image Source: Firstpost

প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে তিন উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপর্যয়ে তখন উইকেটে আসেন পাকিস্তানের দলীয় অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। বাবর আজমকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তিনি। পরের ওভারেই ব্র্যাথওয়েটের বলে শিমরন হেটমায়ারের হাত ক্যাচ তুলে দেন বাবর আজম। ক্যাচটি তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন হেটমায়ার। এতে নতুন জীবন ফিরে পান আজম। তবে তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ১৪তম ওভারে ওশান থমাসের বলে উইকেটরক্ষক শেই হোপের হাতে ক্যাচ তুলে দেন বাবর আজম। ৩৩ বল খেলে ২টি চারে ২২ রান করেন তিনি।

এরপর উইকেটে আসেন মোহাম্মদ হাফিজ। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে লেগ স্টাম্পের বাহিরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটের পিছনে ক্যাচ তুলে দেন সরফরাজ আহমেদ। তবে জোরালো আবেদনের পরও আম্পায়ার কোনো সাড়া না দিলে রিভিউয়ের আবেদন করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। টিভি আম্পায়ার আউট দিলে সাজঘরে ফিরে যান সরফরাজ আহমেদ। একই ওভারের শেষ বলে হোল্ডারের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সদ্য উইকেটে আসা ইমাদ ওয়াসিম। ক্রিস গেইলের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি। দলীয় স্কোর তখন ৬ উইকেটে ৭৭ রান।

আন্দ্রে রাসেল; Image Source: gcf-vn.org

ঠিক পরের ওভারেই ওশান থমাসের বলে এলবিডব্লুউয়ের ফাঁদে পড়েন সাদাব খান। শূন্য রানে আউট হন তিনি। পরের ওভারে আবারো বোলিং আক্রমণে আসেন জেসন হোল্ডার। শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে সেলডন কটরেলের হাতে ক্যাচ দেন হাসান আলী। পরের ওভারে ওশান থমাসের তৃতীয় উইকেটের শিকার হন মোহাম্মদ হাফিজ। ২৪ বলে ২টি চারের সুবাদে ১৬ রান করেন তিনি। দলীয় স্কোর তখন ৯ উইকেটে ৮৩ রান।

এরপর শেষ উইকেট জুটিতে ২১তম ওভারে জেসন হোল্ডারের বলে ২টি ছয় ও ১টি চারে ১৭ রান তুলে দুই ব্যাটসম্যান ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ আমির। যার সুবাদে পাকিস্তানের দলীয় স্কোর শতকের কোঠা স্পর্শ করে। পরের ওভারে ওশান থমাসের বলে বোল্ড আউট হন ওয়াহাব রিয়াজ। ১১ বল মোকাবিলা করে ২টি ছয় ও ১টি চারে ১৮ রান করেন তিনি। মাত্র ২১.৪ ওভারেই ১০৫ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ওশান থমাস ২৭ রানে ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়াও জেসন হোল্ডার ৩টি, আন্দ্রে রাসেল ২টি ও সেলডন কটরেল ১টি করে উইকেট তুলে নেন।

১০৬ রানের সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসেন ক্রিস গেইল ও শেই হোপ। এবং বোলিং আক্রমণে আসেন মোহাম্মদ আমির।

ক্রিস গেইল; Image Source: Wah Cricket

প্রথম থেকেই বেশ আগ্রাসী হয়ে ব্যাট চালাতে থাকেন ক্রিস গেইল। তবে পঞ্চম ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং শিবিরে আঘাত হানেন মোহাম্মদ আমির। মোহাম্মদ হাফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান শেই হোপ। ১৭ বল খেলে ১১ রান করেন তিনি। এরপর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসেন ড্যারেন ব্রাভো। সপ্তম ওভারে তিনিও আমিরের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেন ব্রাভো।

চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসেন নিকোলাস পুরান। এরই মাঝে মাত্র ৩৩ বল খেলে ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ক্রিস গেইল। এরপরেই মোহাম্মদ আমিরের বলে সাদাব খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ক্রিস গেইল। ৩৪ বল খেলে ৩টি ছয় ও ৬টি চারে ৫০ রান করেন তিনি। দলীয় স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৭৭ রান।

এরপর শিমরন হেটমায়ার উইকেটে এলে তাকে নিয়েই মাত্র ১৩.৪ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পোঁছে নিয়ে যান নিকোলাস পুরান। হেটমায়ার ৭ ও নিকোলাস পুরান ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ আমির ২৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন।

ওশান থমাস; Image Source: Hindustan Times

২৭ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ওশান থমাস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান ১০৫/১০ (২১.৪ ওভার)

ফখর ২২, থমাস ৪/২৭

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৮/৩ (১৩.৪ ওভার)

গেইল ৫০, আমির ৩/২৬

Featued Image Source: DNA India

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *