২০১৫ বিশ্বকাপের ৫টি স্মরণীয় ম্যাচ

নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপের প্রত্যেকটি ম্যাচই ছিল বিনোদনে ভরপুর। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা ওঠে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উত্তেজনায় ঠাঁসা এই আসরের। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে ঠাঁই করে নিয়েছে স্থায়ীভাবে। আমাদের আজকের আলোচনা সাজানো হয়েছে ২০১৫ বিশ্বকাপের স্মরণীয় ৫টি ম্যাচ নিয়ে।

১. নিউজিল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, ফাইনাল ম্যাচ, মেলবোর্ন

২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে কিউইদের মুখোমুখি হয়ে ১উইকেটে হারের মুখ দেখে মাইকেল ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়া। তবে নিউজিল্যান্ডের সাথে অকল্যান্ডের সেই হারের প্রতিশোধ মেলবোর্নে ‘সুদে আসলে’ তোলে অজিরা। গ্রুপপর্ব এবং নকআউট পর্বে নিজেদের প্রত্যেকটি ম্যাচে অপরাজিত নিউজিল্যান্ডকে ফাইনাল ম্যাচে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় অস্ট্রেলিয়া।

মেলবোর্নে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কিন্ত ম্যাচের প্রথম ওভারের কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফিরে নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন স্বয়ং ম্যাককালামই। দ্রুতই দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধকল কাটিয়ে না উঠতেই দলীয় ৩৩ রানে ম্যাক্সওয়েলের বলে সাজঘরে ফেরেন ফর্মে থাকা মার্টিন গাপটিল।

ম্যাচ জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা; Source: abc.net.au

দলীয় ৩৯ রানে দলের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ কেন উইলিয়ামসন মিচেল জনসনের হাতে তালুবন্দী হওয়ার পর কিউই ইনিংস মেরামতের হাল ধরেন গ্রান্ট এলিয়ট। রস টেলরের সাথে কার্যকরী একটি পার্টনারশিপ গড়ে সচল রাখেন নিউজিল্যান্ডের রানের চাকা। তবে এই দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর অজি বোলারদের সামনে আর কোনো কিউই ব্যাটসম্যানই লড়াই করে রান তুলতে পারেননি। এলিয়টের ৮৩ রানের উপর ভর করে ১৮৩ রানের পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড।

স্বল্প লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের শিকারে পরিণত হন অজি ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ। তবে আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের ৪৫, স্টিভেন স্মিথের ৫৬ এবং অধিনায়ক ক্লার্কের ৭৪ রানে ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। পুরো বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ফর্মে থাকা নিউজিল্যান্ডকে হার মানতে হয় শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার কাছে৷

২. আফগানিস্তান বনাম স্কটল্যান্ড, গ্রুপপর্বের ম্যাচ, ডানেডিন

২০১৫ বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচে ডানেডিনে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয় আফগানিস্তান। টসে জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে দৌলত জাদরানের বলে নাজিবউল্লাহ জাদরানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন কলাম ম্যাকলয়েড। স্কটল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেউই উইকেটে বেশিক্ষণ টিকে থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে পারেননি।

জয়ের পর শাপুর জাদরান ও হামিদ হাসান; Source: luvemint.com

নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট খুইয়ে ২১০ রানের সংগ্রহ পায় স্কটল্যান্ড। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে ১০ ওভার বল করে ৩৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট তুলে নেন শাপুর জাদরান। জবাবে দিতে এসে ৮৫ রানেই ৩ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ওপেনার জাভেদ আহমাদির ৫১ রানের ইনিংসের পর স্কোরবোর্ডে আফগান ইনিংসের রানের চাকা সচল রাখেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি।

৯৬ রানে শেনওয়ারি প্যাভিলিয়নে ফিরলে ধ্বসের মুখে পড়ে আফগান ইনিংস। ৮৫ রানে ৩ উইকেট থেকে মাত্র ১২ রান তুলতে মুহুর্তেই আফগানিস্তান হারায় আরও ৪ উইকেট। তবে শেষ পর্যন্ত বোলার হামিদ হাসান এবং শাপুর জাদরানের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে ৩ বল বাকি থাকতেই ১ উইকেটের জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান।

৩. নিউজিল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, গ্রুপপর্বের ম্যাচ, অকল্যান্ড

গ্রুপপর্বের ম্যাচে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে মুখোমুখি হয় বিশ্বকাপের দুই স্বাগতিক দল নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় মাত্র ১৫১ রানে। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ব্রাড হাডিনের ৪৩ ও ডেভিড ওয়ার্নারের ৩৪ রানের ইনিংসটি বাদে আর কোনো অজি ব্যাটসম্যান বলার মতো রান সংগ্রহ করতে পারেননি। ১০ ওভার বল করে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট।

জয়ের পর বোল্ট এবং উইলিয়ামসন; Source: crictracker.com

সহজ লক্ষ্যে জয়ের জন্য ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড ২ উইকেট হারিয়ে ৭.৪ ওভারেই তোলে ৭৮ রান। কিন্ত প্যাট কামিন্সের বলে অধিনায়ক ম্যাককালাম ফিরে যাওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের পুরো ইনিংসে শাসন চালায় অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা। কোরি অ্যান্ডারসনের ২৬ রানের ইনিংসটি বাদে ফর্মে থাকা কেন উইলিয়ামসনকে আর কোনো কিউই ব্যাটসম্যান যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে মিচেল স্ট্রার্ক ৯ ওভারে ২৮ রানের বিনিময়ে তুলে নেয় ৬ উইকেট। তবে উইলিয়ামসনের ৪৫ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ম্যাচের ১৬১ বল বাকি থাকতেই ১ উইকেটের জয় পায় কিউই শিবির।

৪. আয়ারল্যান্ড বনাম জিম্বাবুয়ে, গ্রুপপর্বের ম্যাচ, হোবার্ট

২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে চমক দেখায় আয়ারল্যান্ড। হোবার্টের ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে টসে জিতে পরে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। এড জয়েসের ১০৩ বলে ১১২ এবং অ্যান্ডি বালবির্নির ৭৯ বলে ৯৭ রানের ইনিংস দুটির উপর ভর করে ৮ উইকেটে ৩৩১ রানের সংগ্রহ পায় আইরিশরা।

এড জয়েসে; Source: cricketsupport.com

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দ্রুত উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তবে অধিনায়ক টেলর এবং শেন উইলিয়ামস অসাধারণ জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান জিম্বাবুয়েকে। টেলরের ১২১ ও উইলিয়ামসের ৯৬ রানের ইনিংসের পতনের পর আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ৪৯.৩ ওভারে লক্ষ্য থেকে মাত্র ৫ রান দূরে ৩২৬ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।

৫. বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড, গ্রুপপর্বের ম্যাচ, অ্যাডিলেড

২০১৫ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডের জন্য হতাশার একটি টুর্নামেন্ট। গ্রুপপর্বের ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নেয় এউইন মরগানের দল। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ জয়ের জন্য ২৭৫ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে৷ বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে এই ম্যাচে সর্বপ্রথম সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

রুবেল হোসাইন; Source: firstpost.com

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেনার ইয়ান বেল এবং উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জস বাটলার বাদে অন্য কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশী বোলারদের তোপের সামনে লড়াই করতে পারেননি৷ ডেথ ওভারে রুবেল হোসেনের অসাধারণ বোলিংয়ে ৪৮.৩ ওভারে ২৬০ রানে অলআউট হয় মরগানের দল। ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মাহমুদউল্লাহ।

Featured Photo Credit: ESPNCricinfo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *