ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ব্যর্থতা ও সফলতা সমূহ (প্রথম পর্ব)

অতঃপর প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। বারবার চ্যাম্পিয়ন হবার আশায় ট্রফির খুব কাছে গিয়েও যেন থমকে দাঁড়াতে হয়েছে টাইগারদের। ১৯৯৭ সালে প্রথমবারে মতো ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশ পুরো অপরিপক্ক একটি দল। ক্রমান্বয়ে নিজেদের পরিপক্ব করতে করতে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। জয়ের খুব কাছ থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল সেদিন। আসুন, আজ দেখে নিই সেই সময়ের অপরিপক্ক বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজগুলোর ব্যর্থতা ও সফলতা সমূহ-

প্রেসিডেন্টস কাপ, ১৯৯৭

১৯৯৭ সালে কেনিয়ায় প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ। ‘প্রেসিডেন্টস কাপ’ সিরিজের বাকি দুটো দল ছিল জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। এবং সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ নাইরোবির জিমখানা ক্লাব গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়।

সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে কেনিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কেনিয়া ৩৪৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। জবাবে ১৯৭ রানেই সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের সাথে ৪৮ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের উল্লাস; Source: espncricinfo.com


সিরিজের চতুর্থ ও নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৮৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এবং সিরিজের শেষ ম্যাচেও কেনিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১০০ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। হেরে যায় ৮ উইকেটে। ফলে সিরিজে সবকটি ম্যাচে হার নিয়েই দেশে ফিরে বাংলাদেশ।

সিলভার জুবলি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ, ১৯৯৮

১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সিলভার জুবলি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে অংশগ্রহণ করে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। সিরিজের প্রত্যেকটি ম্যাচ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৪৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন ও শচীন টেন্ডুলকারের হাফসেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটের জয় পায় ভারত।

Source: Cricbuzz.com

সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এতে ৯ উইকেটের সহজ জয় পায় পাকিস্তান। এই জয়ে প্রথম ম্যাচে ভারতের সাথে হারলেও ফাইনালে উঠে পাকিস্তান। তবে ফাইনালে তিনটি ম্যাচের মধ্যে ২-১ ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

কোকা-কোলা ট্রায়াঙ্গুলার সিরিজ, ১৯৯৮

১৯৯৮ সালে ভারতে কোকা-কোলা ট্রায়াঙ্গুলার সিরিজে ভারত, কেনিয়া ও বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে। সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আমিনুল ইসলামের ৭০ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত।

কেনিয়ার জয় উৎসব; Source: rediff.com

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কেনিয়ার দেওয়ার ২৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আতহার আলীর ৪৯ ও মোহাম্মদ রফিকের ৭৭ রানের উপর ভর করে ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় পায় বাংলাদেশ। তবে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটিতে কেনায়ার সাথেই হেরে যায় বাংলাদেশ। কেনিয়ার দেওয়া ২২৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

এরপর সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ১১৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় ভারত। সিরিজে বাংলাদেশ মাত্র একটি ম্যাচে জয় পায়। ভারত ৩টি ও কেনিয়া ২টি জয় নিয়ে ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। ফাইনাল ম্যাচে কেনিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

মেরিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ১৯৯৯

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত মেরিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলতে আসে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ে। সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে কেনিয়াকে ১৩৩ রানে পরাজিত করে জিম্বাবুয়ে। এরপর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ২১৩ রানের বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয় পায় কেনিয়া।

Source: youtube.com

এরপর সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ৩১১ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৮৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। সিরিজের পঞ্চম ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় কেনিয়ার বিপক্ষে ৭৩ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।

সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মেহরাব হোসেনের সেঞ্চুরি, শাহরিয়ার হোসেন ও আকরাম খানের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে ২৫৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৩ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। ফলে দেশের মাটিতেই শূণ্য হাতে দর্শক হয়ে উপভোগ করতে হয় কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের ফাইনাল ম্যাচ। ফাইনালে কেনিয়াকে ২০২ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় জিম্বাবুয়ে।

টিভিএস কাপ, ২০০৩

২০০৩ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টিভিএস কাপ সিরিজে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের প্রত্যেকটি ম্যাচ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৭৬ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে মাত্র ৭৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এরপর সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ২৯৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২১১ রানে সবকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হেরে যায় ৮৩ রানে।

শচীন টেন্ডুলকার; Source: espncricinfo.com

সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০৭ রানে ইনিংস শেষ হয় বাংলাদেশের। সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হাতে রেখে জিতে যায় ভারত। এবং সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। শূন্য হাতেই সিরিজ থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। সমান ৩ ম্যাচ করে জিতে ফাইনালে উঠে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে দুটো ফাইনাল ম্যাচই বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষনা করা হয় দুই দলকে।

ন্যাটওয়েস্ট সিরিজ, ২০০৫

২০০৫ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে কোনো উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।

অস্ট্রেলিয়ার সাথে আফতাব আহমেদের জয় উৎসব; Source: espncricinfo.com

এরপর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৫০ রানের টার্গেট দেয় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে মোহাম্মদ আশরাফুলের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৬৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচটি জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর সিরিজের সপ্তম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে এবং সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। সিরিজে বাংলাদেশ মোট ৬টি ম্যাচ খেলে ১টিতে জয় পায়। অপরদিকে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ম্যাচটি ড্র হয়।

Featured Image Source: Twitter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *