ডব্লিউ জি গ্রেস থেকে বেন স্টোকস এবং ইংলিশ ক্রিকেট

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। দলের রান ২০০ ছাড়িয়ে যাবার পরেও কমেন্ট্রি বক্সে নাসির হুসেনের আক্ষেপ, কেউই থিতু হতে পারছেন না। জেসন রয়, জো রুট আর এউইন মরগান ফিফটি করলেও ইংল্যান্ডের বিপ্লবী এই অধিনায়কের মন ভরেনি। বেঞ্জামিন স্টোকস ফিফটি করলেন। খানিক বাদে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলে দিলেন অধিনায়ক মরগান। নাসির হুসেনের আক্ষেপ বাড়লো। স্টোকস ফিফটি করলে কি হবে! শেষ ক’মাসের পারফর্মের জন্য তো তার উপর খুব বেশি ভরসা করা যায়না। কিন্তু বেন স্টোকসের দিনটা ছিল অন্যরকম। মরগানের পর অন্য প্রান্তে আসা যাওয়ার মিছিলে ধ্রুবক তিনি। ফিরলেন ৮৯ করে।

মঈন আলী এবং বেন স্টোকস; Source – espncricinfo

খেলার শেষ দিকে ফিকোয়াহর বলে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলেন। খানিক অস্বস্তিতেই ছিলেন হয়তো। বেন স্টোকসকে দিয়ে বল করাবার ঝুঁকি নিলেন না মরগান। বাউন্ডারি লাইনে যদিও ছিলেন তিনি। জোফরা আর্চারের তোপে আগেই দিশেহারা দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ভরসা ফিকোয়াহ। আদিল রশিদের বলে উড়িয়ে মারলেন। বেন স্টোকস গেলেন বলের লাইনে। বাকিটা ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন। পরে বল হাতে এসে কোটা পূরণ করলেন দুই উইকেট নিয়ে। স্টোকসের স্তুতি আপাতত থাকুক। সময়ের কাঁটা ঘুরানো যাক আরো অনেক দিন আগে। স্টোকসদের বেড়ে ওঠার মঞ্চ যেখান থেকে ঠিক সেখানে।

আদ্যিকালের ইংলিশ ত্রিরত্ন

ক্রিকেট তখনো খেলা হতো কেবল ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার মাঝে। তখন না ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, না ছিল দাপুটে ওয়েস্টইন্ডিজ। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই ছিল দূর্লভ বস্তু। সেই সময় থেকেই বেন স্টোকস, মঈন আলীদের জন্য মঞ্চ বানানোর কাজে হাত দিয়েছিলেন ৩ জন।

প্রথমে জেনে নিন জর্জ হার্স্ট এর নাম। জন্ম ১৮৭১ সালে। টেস্ট অভিষেক ১৮৯৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু ওই যে! আন্তর্জাতিক ম্যাচ তখন দূর্লভ ব্যাপার। হার্স্টের কীর্তি দেখা যায় কাউন্টি ক্রিকেটে। ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলেছেন ৮২৬ ম্যাচ। রান আর উইকেট সংখ্যা জানার আগে একটু দম নিতে পারেন। জর্জ হার্স্টের উইকেট ছিল ২৭৪২ টি আর সাথে আছে ৩৬,৩৫৬ রান। ডানহাতে চালাতেন ব্যাট আর বল করতেন বাম হাতে। স্টোকসের মতই বাহাতি বোলার ছিলেন হার্স্ট।

বল হাতে জর্জ হার্স্ট; Image source: wisden

১৯০২ সালের অস্ট্রেলিয়া সফর। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড যখন যখন বিধ্বস্ত জর্জ হার্স্ট ৯৪ মিনিট ক্রিজে দাঁড়িয়ে গড়লেন ৮০ রানের জুটি। ম্যাচ যখন শঙ্কায়, বল হাতে হার্স্ট ১৫ রানে নিলেন ৩ উইকেট। অস্ট্রেলিয়া অলআউট ৩৬ রানেই। ম্যাচ তো বটেই, সিরিজও ঘরে তোলে ইংলিশরা, ওই জর্জ হার্স্টের কল্যাণে।

পরেরজন উইলফ্রেড রোডস। তিনিও ইয়র্কশায়ার কাউন্টি দলের খেলোয়াড়। এবং অবধারিতভাবেই ইংলিশ ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি। ইয়র্কশায়ারের জার্সিতে ১১০০ ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ৪২০৪ টি আর রানসংখ্যা ৩৯,৯৬৯। রোডসের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে ১৮৯৯ সালে। ক্যারিয়ারে ৫৮ টি টেস্ট খেলেছেন এই ওপেনার। সবখানেই প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের জার্সিতে রোডস ছিলেন আরো বেশি উজ্জ্বল।

ব্যাটিং এ উইলফ্রেড রোডস; Image source: gettyimages

৫৮ টেস্টেই রোডসের ঝুলিতে জমা হয়েছিল ১২৭ উইকেট আর সাথে ছিল ২৩২৫ রান। তবে উইলফ্রেড রোডসের সেরা সময় ছিল ১৯১১-১২ তে অস্ট্রেলিয়া ট্যুর। জ্যাক হোবসের সাথে রোডসের ওপেনিং জুটি সেবার ঘুম কেড়ে নিয়েছিল অজি বোলারদের। কাভার ড্রাইভ আর ব্যাকফুটের ডিফেন্সিভ সব শটে অজি বোলারদের দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছিলেন রোডস। ব্যাটসম্যানদেরও স্বস্তি দেননি তিনি। মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে আজো ইংল্যান্ডের সেরা কিছু বোলিং ফিগার তার নামেই সংরক্ষিত।

পরের জন অবশ্যই এবং অবশ্যই ডব্লিউ জি গ্রেস। ইংল্যান্ডের সেরা অলরাউন্ডার তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে থাকবেন এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা চলেনা। ১৮৪৮ সালে জন্ম নেওয়া গ্রেস ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবং ডানহাতি বোলার দুইক্ষেত্রেই ছিলেন দারুণ সফল। ১৮৬৫ সাল থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৪ বছর তিনি কাউন্টি ক্রিকেটে একক রাজত্ব করেছেন। ইংলিশ কাউন্টির সমস্ত রেকর্ডই বলতে গেলে এককভাবে আজো নিজের কাছেই রেখেছেন ডব্লিউ গ্রেস।

কিংবদন্তী ডব্লিউ জি গ্রেস; Source – espncricinfo

ইংলিশ জাতীয় দলের হয়ে গ্রেস খেলেছিলেন মাত্র ২২ টি ম্যাচ। কিন্তু তাতেই তিনি রীতিমতো কিংবদন্তীতূল্য সব কীর্তি করে রেখেছেন। সমসাময়িক অন্য সবার মত তার ক্যারিয়ারেও প্রতিপক্ষ কেবল অস্ট্রেলিয়াই ছিল। ২২ ম্যাচে তার রান ছিল ১০৯৮। সর্বোচ্চ ১৭০। ১৮৯৬ সালে আর্নি জোন্সের বাউন্সারে তার শান্ত আচরণ এখনো ক্রিকেটে জেন্টেলম্যান গেমের বড় উদাহরণ।

ইয়ান বোথাম: আধুনিক অলরাউন্ডারের সংজ্ঞা

ক্রিকেটের প্রথম বৈশ্বিক অলরাউন্ডার কে? কপিল দেব, ইমরান খান নাকি ইয়ান বোথাম? উত্তর অবশ্যই ইয়ান বোথাম। ক্রিকেট বিশ্বে অলরাউন্ডার কতটা কার্যকরী হতে পারে তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্যার ইয়ান বোথামই। মাত্র ১৫ বছরেই সামারসেটের হয়ে কাউন্টি অভিষেক ঘটে তার। এরপর দল বদলে গিয়েছেন ওরচেস্টারশায়ার এবং ডারহামে। ৪০২ ম্যাচের কাউন্টি ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে ১৯,৩৯৯ রানের পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১১৭২ উইকেট।

হেডিংলি টেস্টে বোথাম; Source – espncricinfo

অ্যাশেজ ১৯৮১। প্রথম দুই ম্যাচে যাচ্ছেতাই পারফর্ম করলেন বোথাম। কেড়ে নেয়া হলো অধিনায়কত্ব। দল পিছিয়ে গেল ২-০ তে। এরপরেই বোথাম ফিরলেন নিজের মত করে। ১৯৮১ সালের অ্যাশেজ পরে নাম পেল বোথামের অ্যাশেজ। হেডিংলিতে ৩য় টেস্ট। ইংলিশ বোলারদের রীতিমতো নাজেহাল করেছেন অজি ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু বোথাম রইলেন নিজের মত করে। ৯৫ রান খরচায় নিলেন ৬ টি উইকেট। জবাবে মাত্র ১৭৪ রানেই গুটালো ইংলিশরা। ফিফটি বোথামের।

ফলোঅনেও পরিস্থিতি বদলালো না। গ্রাহাম গুচ, জিওফ্রে বয়কট, ডেভিড গাওয়ার আর মাইক গ্যাটিং সবাই ফিরে গেলেন। ডেনিস লিলি আর অল্ডারম্যানে দিশেহারা স্বাগতিকরা। তখনই মঞ্চে ইয়ান বোথাম। বুক চিতিয়ে লড়ে গেলেন একাই। ২৭ চার আর ১ ছয়ে ১৪৮ বলেই করলেন ১৮৯ রান। অজিদের সামনে টার্গেট ১৩০। কিন্তু এবার ইংলিশ রূপকথা হলো। ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতলো ১৮ রানে। ম্যাচসেরা বোথাম।

চতুর্থ ম্যাচে আবার নিষ্প্রভ বোথাম। দুই ইনিংসে করলেন ২৬ আর ৩। প্রথম ইনিংসে নিলেন কেবল এক উইকেট। চতুর্থ ইনিংসে আবার ব্যাট করতে নামলো অজিরা। টার্গেট ১৫১। অ্যালান বোর্ডার আর গ্রাহাম ইয়ালপে তখন সিরিজ নিশ্চিত করার স্বপ্নে বিভোর অজিরা। অফ স্পিনার জন এম্বুরি ফেরালেন দুজনকে। তখনো ম্যাচের ভাগ্য অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে। অধিনায়ক মাইক বেয়ারলি কি ভেবে বল দিলেন ইয়ান বোথামকে। এরপর যা ঘটলো তার জন্য হয়ত কেউই প্রস্তুত ছিল না। এতদিন পরেও লোকের মুখে মুখে ফেরে বোথামের সেদিনের আগুনে বোলিং এর কথা। সেদিনের সেই স্পেলটা ছিল – ২৮ বল, ১ রান এবং ৫ উইকেট।

ম্যাচ শেষে ভক্তদের মাঝে ইয়ান বোথাম; Source – pinterest

রডনি মার্শ আর রেই ব্রাইট সোজা বলেই হারালেন পথ। একজন বোল্ড, আরেকজন এলবিডব্লিউ। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিলেন ডেনিস লিলি। অস্ট্রেলিয়ার শেষ আশা মার্টিন কেন্ট। কিন্তু দিন যেদিন বোথামের সেদিন কেন্ট কেন, অসহায় সবাই। কেন্ট ফিরলেন বোথামের সুইং করা বলে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেরি অল্ডারম্যান ফিরে গেলে ইংল্যান্ড পায় ৩০ রানের জয়। আর অ্যাশেজ হয় কেবলই স্যার ইয়ান বোথামের।

পল কলিংউড, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ আর টুকরো রূপকথা

ইংলিশ ক্রিকেটে হঠাৎ অন্ধকার। ৯২ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর ছন্দ হারালো ইংল্যান্ড। মর্যাদার লড়াই অ্যাশেজেও অস্ট্রেলিয়া থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে পড়ছে। তখনই ইংল্যান্ডকে পথ দেখালেন দুজন। পল কলিংউড আর অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। ক্রিকেটের জনক হয়েও ইংল্যান্ডের হাতে নেই বৈশ্বিক কোন শিরোপা। না বিশ্বকাপ, না চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি! টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও হতাশ বারবার। ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বীপে নোঙ্গর করলো কলিংউডের ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টের শুরুতে সব বাজি ছিল চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান আর সুপার পাওার অস্ট্রেলিয়ার উপর। কিন্তু সেবারের নাটক হল অন্যরকম। ফাইনালে উঠে গেল ইংল্যান্ড, আর সেমিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে তাদের সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দী অস্ট্রেলিয়া। সেদিন কলিংউড না করলেন বোলিং না পেলেন বড় স্কোরের সুযোগ। কিন্তু মাঠে তিনি হারালেন আরেক গ্রেট পন্টিংকে।

কলিংউডের হাতে যখন টি টুয়েন্টি শিরোপা ; Image Source – wisden

দারুণ অধিনায়কত্ব, বোলিং রোটেশন সব মিলিয়ে রায়ান সাইডবটম বা কিসওয়েটারদের মত খেলোয়াড় নিয়ে কলিংউড পার করলেন ক্লার্ক, পন্টিং আর মাইক হাসির অজিদের। সেদিন অজিদের চোখে চোখ রেখে আগুন ঢালবার রসদ অবশ্য জুগিয়েছেন আরেকজন। তিনি অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ।

২০০৫ অ্যাশেজ, এজবাস্টন টেস্ট। ১১২ রানের ওপেনিং জুটির পর ১৮৭ রানেই ইংল্যান্ডের নেই ৪ উইকেট। ক্রিজে অভিষেক ঘটা পিটারসেন। সাথে অ্যান্ডু ফ্লিনটফ। ফ্লিনটফ আর টেস্ট খেললেন না। ম্যাকগ্রা, লি, গিলেস্পি আর ওয়ার্নকে সামলালেন যোদ্ধার মত করে। ইয়ান বোথামের পর প্রথম ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টে ছয়টির বেশি ছয় হাঁকালেন। পুরো ম্যাচে ফ্লিনটফের রান ১৪১। উইকেট সাতটি। সংখ্যা যাই বলুক, ম্যাচটা ছিল ফ্লিনটফেরই।

এজবাস্টনের সেই ম্যাচ শেষে লি ফ্লিনটফের আলোড়ন তোলা ছবি; Source – espncricinfo

৩১১ রানের লক্ষ্যে টেলএন্ডারদের নিয়ে ভালই এগুচ্ছিলেন ব্রেট লি। কিন্তু অন্যপ্রান্তে যে আগুন হাতে তৈরি ফ্রেডী! অজিদের তিন ভরসা ল্যাঙ্গার, পন্টিং আর ওয়ার্নের পাশাপাশি গিলেস্পিকেও ফেরালেন। ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতলো ২ রানে। পরে সিরিজটাও ঘরে তুললো দীর্ঘ ১৮ বছর পর। ১৯৮১ সালের বোথামের অ্যাশেজের পর ২০০৫ এর অ্যাশেজ নামাঙ্কিত হলো ফ্লিনটফের নামে।

নতুন পথিক মঈন আলী, বেন স্টোকস

ফ্লিনটফ আর কলিংউড গেলেন। আরেকবার ক্রান্তিকালে ইংল্যান্ড। তবে এবারের অপেক্ষা দীর্ঘ না। ফ্লিনটফ আর বোথাম দুজনের জাদু একাই নিয়ে আসলেন একজন। বেন স্টোকস। টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ ওভারে চার বলে চার ছয় খেয়েও যিনি মাঠে ফেরেন বীরের মত করে। ইংল্যান্ডকে যিনি স্বপ্ন দেখান আরো একবার। আর ডব্লিউ জি গ্রেসের মত বিশাল দাঁড়ি নিয়ে নীরবে তার পাশে যোগ্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছেন একজন। নাম মঈন আলী।

নতুন ভরসা বেন স্টোকস; Source – espncricinfo

সাল ২০১৯। চলছে বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের মাটিতে যে যাই করুক না কেন, মোছা যাবেনা বেন স্টোকসের সেই ইনিংস, সেই ক্যাচ। ইংল্যান্ড মানেই অলরাউন্ডারদের পুণ্যভূমি। এখানে ডব্লিউ জি গ্রেস খেলেছেন, খেলেছেন কলিংউড আর ফ্লিনটফ। খেলছেন মঈন আলী আর বেন স্টোকস। হয়ত তাদের পরেও আসবেন আরো অনেকে। আসতেই হবে। অলরাউন্ডারদের এই পথ যে একদিনের না। এ পথের বয়স শত বছরের বেশি।    

Feature Image – skysports

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *