কেমন হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ একাদশ

অপেক্ষার কাঁটা ঘুরতে ঘুরতে ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ একেবারেই দরজার কাছাকাছি। চূড়ান্ত ১০ দলের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ব্যস্ত সবাই। আইপিএল সহ ঘরোয়া লিগে কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিজেদের মেলে ধরে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে উদগ্রীব সব খেলোয়াড়। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের জন্য দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশ। শীঘ্রই আসতে পারে বাকি দলের খবরও। এতকিছুর ভিড়ে কেমন হতে পারে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল? বেশ কবছর ধরে দলের বড় সব তারকারা মেরুন জার্সি গায়ে না জড়ালেও বিশ্বকাপের আগে আবার দেশের হয়ে খেলতে শুরু করেছেন গেইল, আন্দ্রে রাসেলরা। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের সাথে তারা খেলেছে হাই স্কোরিং এক সিরিজ। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় কেমন হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য বিশ্বকাপ একাদশ সে নিয়েই আজকের আয়োজন।

বিশ্বকাপে শক্তিশালী দল হিসেবেই যেতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ; Image source- geo.tv

ওপেনার – ক্রিস গেইল এবং এভিন লুইস 

নিঃসন্দেহে সময়ের সেরা দুই মারকুটে ওপেনার গেইল এবং লুইস। মাঠে প্রথম ১৫ ওভারে ঝড় তোলার জন্য অন্যান্য অনেক দল যখন এক ওপেনারের উপর নির্ভর করে সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে দুজন পরীক্ষিত হার্ডহিটার। ক্যারিয়ারে ২৫ ওডিআই সেঞ্চুরিসহ মোট ৪২টি আন্তর্জাতিক শতকের মালিক ক্রিস গেইল। বয়সকে কেবলই একটি সংখ্যা বানিয়ে নিরন্তর রান করতে প্রস্তুত জ্যামাইকান এই দানব। একা হাতেই তিনি বের করে আনতে পারেন একেকটি ম্যাচ। গেইল যে দলের প্রধান ওপেনার সেটি আপাতত নিশ্চিত।

গেইল লুইসেই আক্রমণের শুরু চায় ইউন্ডিজ; Image source- crictracker

গেইলের মতোই নিশ্চিত এভিন লুইস। ৪০ গড়ে ৫৬০ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গেল বছরের সবচেয়ে বেশি রান তারই। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ফর্মে থাকা লুইস তাই গেইলের সঙ্গী হিসেবে নামবেন নন স্ট্রাইক প্রান্তে।

মিডল অর্ডার – শেই হোপ, ড্যারেন ব্রাভো এবং শিমরন হেটমায়ার

দলে যখন কেউ ছিল না তখনই আশা হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে আসেন শেই হোপ। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরেও ব্যাট হাতে রীতিমতো বাংলাদেশকে শাসন করেছেন তিনি। উইকেটের পিছনে উইকেটরক্ষক হয়ে আর উইকেটের সামনে ব্যাটসম্যান হয়ে দুই জায়গাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় ভরসা হোপ। নিজের অভিষেক দুই ম্যাচে অ্যান্ডারসন, ব্রড, ওকস কিংবা মঈন আলী, বেন স্টোকসদের সামলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বড় কিছুর আভাস দিয়েছিলেন তিনি। যে কারণে একাদশে তার জায়গাও প্রায় পাকা।

দলের বড় ভরসা শেই হোপ; Image source- independent.co.uk

ড্যারেন ব্রাভো চার নম্বরে জায়গা পাবেন এটা বাজি ধরার পক্ষেই থাকবেন বেশিরভাগ লোক। ড্যারেন ব্রাভোর জন্ম থেকে খেলার ধরনে অনেকটাই কিংবদন্তি লারাকে খুঁজে পান ক্রিকেটবোদ্ধারা। যদিও ব্যাটে রান খানিকটা কম তবে আশা ভরসার জায়গায় শেষ পর্যন্ত তিনিই টিকে থাকতে পারেন।

বিশ্বমঞ্চ মাতানোর অপেক্ষায় হেট্মায়ার; Image source- times of india

শিমরন হেটমায়ার ৫ নম্বরে অটো চয়েজ। মারকুটে এই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে থাকা পর্যাপ্ত হিট শেষের দিকে দ্রুত রান তুলতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। মাত্র ২০টি ওয়ানডে ম্যাচ শেষেই ঝুলিতে আছে ৩ সেঞ্চুরি আর দুই হাফ সেঞ্চুরি। প্রায় ১০৭ এর কাছাকাছি স্ট্রাইকরেট থাকা এই ব্যাটসম্যান ইংলিশ কন্ডিশনে আরো ভয়াবহ হতে পারেন।

লোয়ার অর্ডার – মারলন স্যামুয়েলস, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, জেসন হোল্ডার, সুনীল নারাইন

মারলন স্যামুয়েলস আজো এক ভরসার নাম; Image source – espn

মারলন স্যামুয়েলসকে নিয়ে বেশ কিছু কথা বলা চলে। তিনি চার নাম্বারেও আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে ড্যারেন ব্রাভো হয়তো বাদ যাবেন। দলে আসতে পারেন আরেকজন পেস অলরাউন্ডার। সেদিক থেকে ভাল সম্ভাবনা ছিল আন্দ্রে রাসেলের। যদিও চোটের জন্য অনিশ্চিত রাসেল। তাই আপাতত মারলন স্যামুয়েলস হতে পারেন ভরসা। বর্ষীয়ান এই খেলোয়াড় দলের জন্য চারে উঠে আসলে ৫ এবং ৬ নাম্বারে দেখা যাবে ব্রাভো – হেটমায়ারকে। 

দলে অলরাউন্ডার হিসেবে থাকবেন ব্র্যাথওয়েট; Image source- crictracker

কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে নিয়ে কিছু বলার নেই। ইংলিশ কন্ডিশনে যেমন পেস অলরাউন্ডার দরকার ঠিক তেমন অলরাউন্ডার ব্র্যাথওয়েট। ব্যাটে দারুণ কার্যকরী, সেই সাথে মাঝের ওভারে বোলিং এর জন্য তিনি দুর্দান্ত। দলের প্রয়োজনে ওপেনিং জুটিও করতে পারেন তিনি। তাই নিশ্চিত একাদশে থাকছেন ব্র্যাথওয়েট।

দলের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার; Image source- gettyimages

জেসন হোল্ডার থাকছেন দলের অধিনায়ক হিসেবে। সম্প্রতি মাঠের বাইরেও দলের নেতৃত্বে দারুণ সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। সেই সাথে বেশ কিছুদিন ধরে কথা বলছে তার ব্যাটও। ইংল্যান্ডের সাথে কদিন আগেই পেয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির দেখা। মাত্র ২৩ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব কাঁধে এসে পড়লেও সেই চাপ সামলে দারুণভাবে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন। টেস্টের পর ওয়ানডে দলেও প্রমাণ করেছেন নিজের অপরিহার্যতা। ৮০র উপর ওয়ানডে খেলা হোল্ডারের ঝুলিতে আছে সাতটি অর্ধশতক আর শতাধিক উইকেট। অধিনায়কত্ব আর বোলিং এর পাশাপাশি আট নাম্বারে তার ব্যাটে প্রয়োজনীয় ঝলক আশা করতেই পারে ক্লাইভ লয়েডের উত্তরসূরীরা।

দলে ফিরতে পারেন সুনীল নারাইন; Image source – AFP

এই স্কোয়াডের সবচেয়ে কঠিন জায়গা লোয়ার অর্ডারের একেবারে নিচের অবস্থান। খেলতে পারেন তিন থেকে চারজন। দেবেন্দ্র বিশু বেশ কিছুদিন ধরে দলে নিয়মিত মুখ। জায়গা পেতে পারতেন নার্সও। আবার দুজনের একত্রেও খেলা সম্ভব ছিল। কিন্তু ইংলিশ কন্ডিশনে খেলতে পারতেন কেবল একজনই। আর তাতেই বাজিমাৎ আরেক কান্ডারির। সুনীল নারাইন বেশ অনেকদিন ধরেই আছেন দলের মুখ্য খেলোয়াড় হিসেবে। বিশ্বব্যাপী টি টুয়েন্টি লিগেও তার কদর অসীম। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একাধিকবার ক্যারিয়ার থামলেও নারাইন নিজেকে চেনাতে ভুল করেননি। নিষেধাজ্ঞা না থাকলে এই জায়গায় থাকছেন সুনীল নারাইন। আর তা না হলে দেবেন্দ্র বিশুই হয়ত নামবেন তার লেগস্পিন নিয়ে।

এই দৃশ্য বারবার দেখতে চায় উইন্ডিজ দল; Image source- cricevolution.com

বোলার – ওশান থমাস এবং শেলডন কটরেল

তরুণ তুর্কি ওউশন থমাস; Image source – crictracker

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারানো পেস বোলিংয়ে খানিক রঙ এনে দিচ্ছেন নতুন দুই মুখ। ওশান থমাস মাত্র ২১ বছর বয়সেই ক্যারিবীয় বোলিং লাইনের হাল ধরেছেন। একসময় যা শাসন করতেন অ্যামব্রোস, ওয়ালশ, জোয়েল গার্নারের মত নন্দিত সব বোলার। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ১৪০ গড়ে বল করে নিজেকে গতিদানব হিসেবে প্রথম প্রকাশ করেন এই জ্যামাইকান। পরবর্তীতে ২০১৮ সালেই ভারতের বিপক্ষে অভিষেক আর বাংলাদেশ সিরিজে নিজের জাত আরো ভালভাবে চিনিয়েছেন থমাস। বোলিং ইনিংসের শুরুটা হয়ত তাকে দিয়েই করাবেন জেসন হোল্ডার।

চেনা ভঙ্গিতে শেলডোন কটরেল; Image source – crictracker

স্কোয়াডের সবশেষ মুখ হিসেবে বেশ কজন থাকতে পারতেন। কেমার রোচ বা শ্যানন গ্যাব্রিয়েল পরীক্ষিত হলেও জায়গা সম্ভবত শেলডন কটরেলই পাবেন। বর্তমান সময়ে তার দারুণ বোলিংকে উপেক্ষা করা নির্বাচকদের জন্য বেশ কষ্টের হতে পারে। সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ড সিরিজে খুব বেশি আলো না ছড়ালেও কটরেলের উপর আস্থা রাখতেই হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।  

Feature image – cricevolution

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *