আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯: ইংল্যান্ডের সেরা একাদশ

শুরু হয়েছে আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে বসেছে বিশ্বকাপের এবারের আসর। চলতি মাসের ৩০ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হয়েছে যাচ্ছে ক্রিকেটের সর্ববৃহৎ এই আসরের।

ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ খেলুড়ে ১০টি দলই তাদের ১৫ সদস্যের দল নিয়ে লড়াই চালাচ্ছে। আর স্বাগতিক ইংল্যান্ডও এর ব্যতিক্রম নয়। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কোনো বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা এই দলটি এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

টিম ইংল্যান্ড; image source:enews.hamariweb.com

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ব্যার্থতার পর এই আসরে নিজের ঘরের মাটিতে খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড। বিগত বিশ্বকাপে টিমে থাকা মাত্র ৫জন খেলোয়াড়কে নিয়ে দলটি সাজিয়েছে তাদের এবারের স্কোয়াড। সেই সাথে রয়েছে আরও নতুন কিছু বুদ্ধিমত্তা যা তাদেরকে অনেকাংশে সাহায্য করবে।

ইংল্যান্ডের এবারের স্কোয়াডে রয়েছে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের সাথে চমৎকার কিছু বোলারও রয়েছে। আর এই স্কোয়াডই দলটিকে দিতে পারে এবারের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। তাই আমাদের আজকের আলোচনা সাজানো হয়েছে দলটির সেরা একাদশের সেইসব খেলোয়াড়দের নিয়ে।

ওপেনিং ব্যাটসম্যান

ইংল্যান্ডের ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন তিনজন ওপেনার- জনি বেয়ারস্টো, জেসন রয় ও জেমস ভিঞ্চ। তাদের মধ্যে বেয়ারস্টো ও রয়ের ওপেনিং জুটি ইংল্যান্ডকে বড় একটা সংগ্রহ এনে দেওয়ার জন্য দারুণভাবে সহায়ক। জেমস ভিঞ্চকে দলে নেওয়া হয়েছে অ্যালেক্স হেলসের পরিবর্তে।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর দলটির সেরা ওপেনার জেসন রয় তার ক্যারিয়ারে যোগ করেছেন প্রতি ম্যাচে ৪০.৮০ গড়ে মোট ২৯৩৮ রান। আর তার স্ট্রাইক রেটও পৌছেছে ১০৭ এ। অপরদিকে তার সঙ্গী বেয়ারস্টো ১০৯ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে তার ক্যারিয়ারে যোগ করেছেন ২২১০ রান। যা প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৫০ এর ওপর।

জেসন রয় এবং জনি বেয়ারস্টো; image source: thetimes.co.uk

ডানহাতি এই দুই ব্যাটসম্যানই ব্যাটিং করেন খুবই আক্রমণাত্মক ও নির্ভয়ে। আর তাদের এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যে কোনো ধরনের বোলিং আক্রমণকে প্রতিহত করে ইংল্যান্ডকে নিয়ে যেতে পারে বিশাল এক সংগ্রহের দিকে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সফলতার অন্যতম কারণ এই দুই ব্যাটসম্যান।

মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান

অন্যান্য দেশের তুলনায় ইংল্যান্ড দলের ওপেনিং জুটি যেমন মারকুটে মিডল অর্ডারও তেমন শক্তিশালী। কেননা ওপেনিং জুটির পর দলটির হাল ধরতে প্রস্তুত থাকবেন জস বাটলার, জো রুট এবং এউইন মরগানের মতো ব্যাটসম্যান। যারা যেকোনো মুহুর্তে যে কোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

বিশ্বকাপ-২০১৫ এর পরে ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে সবথেকে বেশি রান পাওয়া ব্যাটসম্যান হলেন জো রুট। তার ব্যাট থেকে এসেছে মোট ৩৮৪২ রান যা ম্যাচ প্রতি গড়ে ৫৮.৩০। আবার একইসময়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানো ব্যাটসম্যান হলেন মরগাান। যা দলের অন্য খেলোয়াড়দের বিশ্বাস বাড়াতে আশ্বাস দেয়।

ইয়েন মর্গান এবং জস বাটলার; image source: skysports.com

অপরপক্ষে ক্রিকেট বিশ্বে বর্তমানে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্যতম হলেন জস বাটলার। বাটলারের বর্তমান স্ট্রাইক রেট ১১৯.৫৭, যা ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই স্ট্রাইক রেটই বলে দেয় যে তিনি বোলারদের বিরুদ্ধে কতটা ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করতে পারেন।

মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সফলতা ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের আরো মারকুটে হয়ে খেলার সাহস এবং স্বাধীনতা দুটোই দেয়। যা ইংল্যান্ডের সফলতার অন্যতম কারণ হতে পারে।

অলরাউন্ডার

তিন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস, মঈন আলী ও ক্রিস ওকস ইংল্যান্ডের জন্য এই বিশ্বকাপে সফলতা পেতে অনেক সহায়ক হবে। কেননা যখনই দলকে তাদের প্রয়োজন হয় তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠতে সক্ষম। বিশেষ করে বেন স্টোকস। বর্তমানে তার স্ট্রাইক রেট ৯৪ এর উপরে। বল হাতেও বেশ দুর্দান্ত।

মঈন আলী এবং বেন স্টোক; image source: telegraph.co.uk

মঈন আলী এবং ক্রিস ওকস দুর্দান্তভাবে বোলিং করে থাকেন। ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে সবথেকে বেশি উইকেট শিকারীদের মধ্যে ওকস রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। তার ইকোনমি রেট ৬ এর কম যার কারণে তিনি ব্যাটসম্যানদের ওপর অনেক চাপ ফেলতে পারেন।

অপরদিকে অফ স্পিনার মঈন আলীও কোনো অংশে কম নয়। তিনি তার বোলিং ঘূর্ণিতে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত করতে পারেন। তার বর্তমান ইকোনমি রেট ৫.২৬। বোলিং ছাড়াও আলী এবং ওকস দুজনই দলের প্রয়োজনে বড় শট খেলতেও সক্ষম। আর তাদের এই সক্ষমতা দলের শক্তি বাড়াতে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

বোলিং

জোফরা আর্চার, লিয়াম প্লাঙ্কেট এবং আদিল রাশিদ ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ সামলাবেন। এদের মধ্যে জোফরা আর্চার হতে পারেন ইংল্যান্ডের জন্য সাফল্যের অন্যতম নায়ক। কেননা বর্তমানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো দলের ব্যাটসম্যানদের ভয়ের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্চার।

অপরদিকে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ৬ এর কম ইকোনমি রেটে বল করে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৮৫টি উইকেট তুলে নিয়েছেন প্লাঙ্কেট। যা তার বোলিং অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে দেয় গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে। তাছাড়া বোলিংয়ের পাশাপাশি তিনি ব্যাট হাতেও বেশ সফল।

ইংল্যান্ড দলের বোলাররা; image source: sportskeeda.com

তাছাড়া বিগত বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে সেরা স্পিনার হলেন আদিল রাশিদ। ১৩২ উইকেট শিকারী এই বোলার সারা বিশ্বে সফল বোলারদের মধ্যে একজন। মিডল ওভারে বল করে যেকোনো পার্টনারশিপ ভেঙে দিতে তিনি বেশ পটু। আদিল রশিদসহ অন্য বোলারা জ্বলে উঠলে ইংল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপ রাঙাতে সক্ষম হবে।

Feature image source: cricket.com.au

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *