নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে দলীয় সর্বনিম্ন ৫ ইনিংস

আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের সূচনা ১৯৭৩ সালে হলেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনেক দেরিতে। ফলে ২০০০ সালের পর পর্যন্তও নারী ক্রিকেটে একচেটিয়াভাবে রাজত্ব করে গেছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল। সেই সময়ে অন্যান্য দলগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও তাদের খেলার মান ছিল শোচনীয়। যার ফলে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের সাথে কোনো পাত্তাই পেত না অন্যান্য দলগুলো। খুব অল্প রানেই গুটিয়ে যেত দলগুলো এবং বিশাল ব্যবধানে হেরে যেত।

যদিও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেট দলগুলোর খেলার মান বেশ ভালো হয়েছে এবং প্রতিটি দলই একে অপরের সাথে বেশ লড়াই করে। আসুন জেনে নিই, নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে দলীয় সর্বনিম্ন ৫টি ইনিংস সম্পর্কে।

৫. পাকিস্তান (২৭ রান)

১৯৯৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপের ১৩তম ম্যাচে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সাইজা খান।

Image result for women cricket pakistan vs aus

Source: Cricket Australia

ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানসহ ইনিংসে মোট ৬ জন ব্যাটসম্যান শূন্য রানে সাজঘরে ফিরে যান। পাকিস্তানের পক্ষে একমাত্র কাইরান এহতাজাজই দুই অংকের স্কোর স্পর্শ করেন। তার অপরাজিত ১১ রানের সুবাদে ১৩.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭ রান করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে অলিভিয়া ম্যাগনো ও জদি ডেনাট ৩টি করে উইকেট লাভ করেন।

সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৬.১ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দল।

৪. ভারত (২৬ রান)

২০০২ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে মাঠে নামে ভারত নারী ক্রিকেট দল। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক আঞ্জুম চোপড়া। 

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় অধিনায়ক এমিলি ড্রামের হাফসেঞ্চুরির সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। ভারতের হয়ে বোলিংয়ে দীপা মারাথি ৪টি ও ঝুলান গোস্বামী ৩টি উইকেট শিকার করেন।

Image result for women cricket new zealand vs india 2002

Source: ICC Cricket

১৬৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের বোলিং তান্ডবে ভারতের টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেনি। দলীয় ১০ রানেই ভারতের ৮ জন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে যান। এরপর লেয়ার অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের মধ্যে গোস্বামী ৬, সুনিতা সিংয়ের ৫ ও নীতু ডেভিডের ৪ রানের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ২৬ রান করতে সক্ষম হয় ভারত। এতে করে ১৪২ রানের বড় জয় পায় নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে র‍্যাচেল পুলার ৫টি ও নিকোলা ব্রাউন ২টি উইকেট শিকার করেন।

৩. স্কটল্যান্ড (২৪ রান)

২০০১ সালে ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফিল্ড কলেজ মাঠে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ানশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় স্কটল্যান্ড। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্কটল্যান্ড।

ব্যাট করতে নেমে প্রথমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও পরে সারাহ ক্লার্কের অপরাজিত ৬৬ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৬২ রান করে ইংল্যান্ড।

Image result for scotland women cricket

Source: Newsd

বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন-আপে ধস নামে। স্কটল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানই যেন নিজেদের স্ট্যাম্প বাঁচিয়ে রাখতে পারেনি। অর্থাৎ ইংল্যান্ডের বোলিং তোপে স্কটল্যান্ডের ৬ জন ব্যাটসম্যানই বোল্ড আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান এবং ৬ জন ব্যাটসম্যান রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। সব মিলিয়ে ২১.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৪ রান করতে সক্ষম হয় স্কটল্যান্ড। ম্যাচটি ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল ২৩৮ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। ইংল্যান্ডের হয়ে লাওরা হার্পার ৪টি ও ইশা গুহা ২টি উইকেট শিকার করেন।

২. পাকিস্তান (২৩ রান)

১৯৯৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েজলি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ওয়ান-অফ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বেলিন্ডা ক্লার্ক।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই পাকিস্তানি বোলারদের তুলোধুনো করে উদ্বোধনী জুটিতেই তোলেন ২১৯ রান। বেলিন্ডা ক্লার্ক ১৩১ রান করে আউট হয়ে গেলে জো গোসের সাথে আরেকটি ভালো জুটি গড়েন লিজা কেউটলি। গোস ৯৪ রানে আউট হলেও লিজা শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৫৬ রান করেন। সব মিলিয়ে ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৩৯৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া।

বেলিন্ডা ক্লার্ক; Source: espncricinfo.com

বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। কোনো ব্যাটসম্যানই স্পর্শ করতে পারেনি দুই সংখ্যার স্কোর। বরং টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানসহ মোট চারজন ব্যাটসম্যান শূন্য রানেই সাজঘরে ফিরে যান। সবমিলিয়ে ২৪.১ ওভার ব্যাট করে ০.৯৫ ইকোনমি রেটে ২৩ রান করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। এতে করে অস্ট্রেলিয়া ৩৭৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার ১১ জন ক্রিকেটার অংশগ্রহণ করলেও ১০ জন ক্রিকেটার নিয়ে ম্যাচ খেলে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল।

১. নেদারল্যান্ডস (২২ রান)

২০০৮ সালে নেদারল্যান্ডসের স্পোর্টপার্ক স্টেডিয়ামে ৪ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় নেদারল্যান্ডস ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী ক্রিকেট দল। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় অধিনায়ক চেডিয়ান ন্যাশন।

সিরিজের বাকি তিন ম্যাচ হারের পর শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে মুক্তি পেতেই মাঠে নেমেছিল নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা। কিন্তু তা আর হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের দুই ফাস্ট বোলার শাকিরা সেলম্যান ও কির্বিয়ানা আলেকজান্ডারের বোলিং তান্ডবে দুমড়েমুচড়ে যায় নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং লাইন-আপ। ১১ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অংকের স্কোর স্পর্শ করতে পারেনি। নেদারল্যান্ডসের ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পাঁচ রান করেছিলেন দলীয় অধিনায়ক হেলমাইন রামবেলদো।

Image result for netherlands women's cricket 2008

Source: InsideTheGames

অবশেষে ২৩.৪ ওভার ব্যাট করে ০.৯২ ইকোনমি রেটে মাত্র ২২ রানেই অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। যা ওয়ানডে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেট ইতিহাসে দলীয় সর্বনিম্ন রান। এমনকি দলীয় ২২ রানের মধ্যে ৬ রানই ছিল বিপক্ষ দলের বোলাদের দেওয়া অতিরিক্ত রান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে শাকিরা সেলম্যান ১১ রান দিয়ে ৪টি এবং কির্বিয়ানা আলেকজান্ডার ৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। ২৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৪ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

Featured Image Source: Feminism In India

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *