বিশ্বকাপ ইতিহাসের শীর্ষ ৫টি দ্রুততম অর্ধশতক

ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরের ১৪তম ম্যাচে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। ম্যাচটিতে ভারত আগে ব্যাট করে অজিদের ৩৫৩ রানের বিশাল লক্ষ্যে ছুড়ে দেয়। লক্ষ্যে পূরণে ব্যাট করতে নেমে ৩১৬ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস। ম্যাচটিতে ভারত ৩৬ রানে জয় লাভ করে।

অ্যালেক্স ক্যারে; Image Source: espncricinfo

অস্ট্রেলিয়া পরাজিত হলেও তাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারে একটি রেকর্ড গড়েন। মাত্র ২৫ বল খেলে এই আসরের দ্রুততম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে অনেক ব্যাটসম্যানই বিশ্বকাপ আসরে দ্রুততম অর্ধশতক করার রেকর্ড করেন। যাতে কারো খরচ সর্বনিম্ন ১৮ বল, কেউবা ২০ বল। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু দ্রুততম অর্ধশতক সম্পর্কে।

১. ব্রেন্ডন ম্যাককালাম(নিউজিল্যান্ড)- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ বলে; ওয়েলিংটন, ২০১৫ বিশ্বকাপ

২০০৭ বিশ্বকাপে নিজের গড়া রেকর্ড ভেঙ্গে ২০১৫ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন রেকর্ডের জন্ম দেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। মাত্র ১৮ বল খেলে ৭ চার আর ৪ ছয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম অর্ধশতক পূর্ণের রেকর্ডটি করেন তিনি। যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। ম্যাচটিতে অজিরা আগে ব্যাট করতে নেমে কিউই বোলার টিম সাউদির দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১২৩ রানে অল আউট হয়ে যায়। সাউদি একাই নেন ৭ উইকেট।

Image Source: espncricinfo

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম থেকেই মারমুখী ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন ম্যাককালাম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে স্টুয়ার্ট ব্রডের প্রথম বলেই ৬ হাঁকান তিনি। পরবর্তী ২ বল ডট গেলেও শেষ ৩ বলে ৩টি ৪ হাঁকান। তখন তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ বলে ১৯ রান। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে বল করতে আসেন এন্ডারসন। স্ট্রাইকে থাকা গাপটিল ওভারের দ্বিতীয় বলে ১ রান নিয়ে জায়গা বদল করেন। বাকি ৪ বল মোকাবেলা করেন ম্যাককালাম। স্ট্রাইকে গিয়ে প্রথম ২ বলে ৪ মারলেও ৫ নম্বর বলে তিনি কোন রান পাননি। ওভারের শেষ বলে ১ রান নিয়ে আবারও স্ট্রাইকে যান তিনি। চতুর্থ নাম্বার ওভারে স্টুয়ার্টের পরিবর্তে বল করতে আসেন স্টিফেন ফিন।

Image Source: espncricinfo

তাকেও ছেড়ে কথা বলেননি ম্যাককালাম। তার ওভারে ২ চার আর ২ ছয় হাঁকান তিনি। তখন তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭ বলে ৪৮ রান। পঞ্চম ওভারে কোন বল খেলতে না পারলেও ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে স্ট্রাইকে গিয়েই ফিনকে ৬ মেরে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম অর্ধশতকটি পূর্ণ করেন ম্যাককালাম। তাছাড়া ওই ওভারে টানা ৪টি ছয় মারেন তিনি। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মাত্র ১২.২ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে জায় কিউইরা।

২. ব্রেন্ডন ম্যাককালাম(নিউজিল্যান্ড)- কানাডার বিপক্ষে ২০ বলে; গ্রোস আইলেট, ২০০৭ বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতক করার রেকর্ডও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দখলে। ২০০৭ বিশ্বকাপে তার ২০ বলের অর্ধশতকটিই ২০১৫ বিশ্বকাপের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুততম অর্ধশতক ছিল। কিন্তু নিজের ২০ বলের রেকর্ডটি ২০১৫ বিশ্বকাপে ১৮ বলে রূপ দেন ম্যাককালাম। ফলে ২০০৭ বিশ্বকাপে করা ২০ বলের অর্ধশতকটি বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

কানাডা সেই ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কিউইদের ৪৩তম ওভারে পঞ্চম উইকেট পতনের পর মাঠে নামেন ম্যাককালাম। তখন তাদের দলীয় সংগ্রহ ছিল ২৭৮ রান। ৪৪ তম ওভারের শেষ বল খেলার সুযোগ পেলেও রান করতে পারেননি তিনি। ৪৫তম ওভারেও ১টি বল খেলে ১ রান করেন। ৪৬ তম ওভারে বল করতে আসা কেবিন স্যান্ডারের ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ বলে ৬ হাঁকান এই কিউই ব্যাটসম্যান। ৪৭ তম ওভারে ৩টি বল খেলার সুযোগ পান, তাতে ১ চার ও ২টি সিঙ্গেল নেন। ফলে তখন তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ বলে ২২ রান।

Image Source: espncricinfo

৪৮ তম ওভারে এসেও তিনি ৩ বল খেলার সুযোগ পান এবং সে ৩ বলে ১টি ছয় ও বাকি দুই বলে ৩ রান নেন। পরবর্তী ওভারে ৪ বল খেলে ৬ রান করেন। ইনিংসের শেষ ওভারে তার অর্ধশতকের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। স্ট্রাইকে থেকে ওভারের প্রথম বল মোকাবেলা করে ৬ মারেন এবং পরের বলে বাউন্ডারি না মারতে পারলেও ২ রান নেন। তখন তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯ বলে ৪৫ রান। ওভারের তৃতীয় বলে আবারো ছক্কা হাঁকান ম্যাককালাম। ফলে ২০ বলে তখনকার সময়ের বিশ্বকাপে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড করেন তিনি। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচটিতে কিউইরা ৩৬৩ রানের বিশাল পুজি পায় এবং ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে।

৩. অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস(শ্রীলঙ্কা)- স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ বলে; হোবার্ট, ২০১৫ বিশ্বকাপ

২০১৫ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত লাহিরু থিরিমানের উইকেট হারালেও পরবর্তীতে দিলশান ও সাঙ্গাকারার দুর্দান্ত শতকে বিশাল পুঁজির পথে হাটতে থাকে লঙ্কানরা। দলীয় ২১৬ রানে দিলশান আউট হলে দলের হাল ধরেন সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে। কিন্তু ২৮৮ রানের মাথায় পর পর দুই বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই দুই তারকা ব্যাটসম্যান। ৩৬ ওভার ৪ বলের সময় জয়াবর্ধনে আউট হয়ে গেলে মাঠে নামেন ম্যাথুস।

Image Source: espncricinfo

সেই ওভারে কোনো বল খেলতে না পারলেও ৩৭ ওভার ৩ বলের সময় তিনি স্ট্রাইকে যান এবং এর পরের বলেই ছক্কা হাঁকান। শেষ ২ বলেও এক চার আর এক ছক্কা মেরে ৪ বলে ১৬ রান করেন। ৩৯, ৪০ ও ৪১তম ওভারে ৭ বল মোকাবেলা করে ৫ রান করেন ম্যাথুস। ১৬ বলে ২৭ রান করা ম্যাথুস ৪৪তম ওভারে বল করতে আসা স্কটিশ বলার ম্যাট মচনকে ৪ বলে চারটি ছয় মেরে মাত্র ২০ বলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম অর্ধশতক পূর্ণ করার রেকর্ড গড়েন। সেই সাথে তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৩৬৩ রানের পুজি পায় লঙ্কানরা এবং ম্যাচটিতে ১৪৮ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে।

৪. মার্ক বাউচার(দক্ষিণ আফ্রিকা)- নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২১ বলে; বাস্তার, ২০০৭ বিশ্বকাপ

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে প্রথমেই এবি ডি ভিলিয়ার্সের উইকেট হারালেও রানের চাকা থেমে থাকেনি প্রোটিয়াদের। সহজ প্রতিপক্ষকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়তে মরিয়া হয়ে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। হার্শেল গিবস ডাচ বোলার ডান ভান বুঙ্গের ৬ বলে ছয়টি ৬ এর রেকর্ডের সাথে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন প্রোটিয়া দলের আরেক মারকুটে ব্যাটসম্যান মার্ক বাউচার। ৩০ ওভার ৫ বলের সময় গিবস আউট হয়ে গেলে মাঠে নামেন বাউচার।

মার্ক বাউচার ও জ্যাক ক্যালিস; Image Source: espncricinfo

মাঠে নেমে প্রথম থেকে দেখেশুনে খেলে ১০ বলে দুই চারে মাত্র ১৫ রান করেন তিনি। ৩৫তম ওভারে বল করতে আসা বিলি স্টেল্লিংকে ৪ বল মোকাবেলা করে ২টি ছয় এবং ১টি চার মারেন। ৩৬ ও ৩৭তম ওভারে ২ বল করে খেলে প্রতি ওভারে ১টি চার ও ১ রান করে নেন। যাতে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯ বলে ৪৩ রান। ৩৮তম ওভারের প্রথম ২ বলে ২টি চার মেরে মাত্র ২১ বলে ২০০৩ বিশ্বকাপে ব্রায়ান লারার করা ২৩ বলের অর্ধশতকের রেকর্ড ভেঙে তখনকার সময়ের দ্রুততম অর্ধশতক পূর্ণের রেকর্ড গড়েন তিনি।

৫. মার্ক বাউচার(দক্ষিণ আফ্রিকা)- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২২ বলে; সেন্ট জর্জ, ২০০৭ বিশ্বকাপ

২০০৭ বিশ্বকাপে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে মাঠে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের চার ম্যাচে শুধু মাত্র আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচে জয় পায় তারা। যার কারণে শীর্ষ চারে থাকার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছাড়া কিছুই ভাবছিল না উইন্ডিজরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়া দুই ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্স ও জ্যাক ক্যালিস দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে করা ১৭০ রানে বিশাল সংগ্রহের পথে হাটতে থাকে আফ্রিকানরা।

Image Source: espncricinfo

দলীয় ১৯১ রানে ক্যালিস আউট হয়ে গেলে মাঠে নামেন হার্শেল গিবস এবং ২৬১ রানে ডি ভিলিয়ার্স আউট হয়ে গেলে মাঠে নামেন বাউচার। সুপার এইটে এসে ব্যাট হাতে আবারও জ্বলে উঠেন বাউচার। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গড়া দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ডের পর আবারও আরেকটি দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। তবে এই বার ১ বল বেশি খেলতে হয়েছে তাকে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২১ বলে করলেও উন্ডিজদের বিপক্ষে অর্ধশতকটি আসে ২২ বলে। যাতে তাকে হাঁকাতে হয়েছে ৫টি ছয় এবং ২টি চারের বাউন্ডারি।

Featured Image: espncricinfo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *