ইংল্যান্ডের সাথে ১০৬ রানে হারলো বাংলাদেশ

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে গতকাল ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নিজেদের আগের দুই ম্যাচে দুই দলই এক জয় এবং এক পরাজয় নিয়ে কার্ডিফে নামে জয়ের লক্ষ্যে। টসে হেরে আগে ব্যাট করা ইংল্যান্ড শুরু থেকেই আক্রমণাত্নক ব্যাটিং করে বাংলাদেশের জন্য ৩৮৭ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়। ইংল্যান্ডের বড় রানের লক্ষ্যের জবাব দিতে এসে মাত্র ২৮০ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।

একাদশ

ইংল্যান্ড

জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট, এউইন মরগ্যান (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, জস বাটলার, মার্ক উড, ক্রিস ওকস, লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট, জোফরা আর্চার ও আদিল রশিদ।

বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ধারাবিবরণী

কার্ডিফে টসে জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এমন ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান। এমন উইকেটে বোলিংয়ে সাকিব আল হাসান ওপেনিং করায় খানিকটা ভড়কে যান দুই ইংলিশ ওপেনার।

ম্যাচের আগে দুই অধিনায়ক; Source: BCB

স্পিনে তুলনামূলক দুর্বল ইংল্যান্ড, সাকিবকে পাওয়ার প্লে-তে খানিকটা অস্বস্তির সাথে খেললেও অন্য বোলারদের বাজে বলে কোনো ছাড় দেয়নি দুই ওপেনার। জনি বেয়ারস্টো এবং জেসন রয় দুজনেই ব্যাট চালিয়েছেন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমায়। তবে বেয়ারস্টোর চেয়ে একটু বেশিই বিধ্বংসী ব্যাটিং করেছেন রয়।

বাংলাদেশ দলের জন্য ১৯.১ ওভারে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। ৫০ বলে সদ্য অর্ধশত করা জনি বেয়ারস্টোকে মেহেদি হাসানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম উইকেট তুলে নেন ম্যাশ। বেয়ারস্টোর বিদায়ের পর উইকেটে আসা জো রুট খানিকটা ধীর লয়ে ব্যাটিং করলেও রয় বিধ্বংসীভাবেই ব্যাটিং চালিয়ে যান।

দলীয় ১২৮ রানে প্রথম উইকেট হারানো ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় উইকেট হারায় ২০৫ রানে। ২৯ বলে ২১ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে বিদায় নেন জো রুট। দ্রুত উইকেট তুলতে না পারার মাশুল বেশ ভালোভাবেই দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। উইকেটের একপ্রান্তে জেসন রয় প্রায় একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ।

জনি বেয়ারস্টো; Source: BCB

৩৪.৪ ওভারে মিরাজের বলে আউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে রয়ের নামের পাশে ততক্ষণে ১৫৩ রান। ১২১ বলের ইনিংসটি এই ওপেনার সাজিয়েছেন ১৪ চার এবং ৫ ছক্কায়। রয়ের এমন ইনিংসের উপর ভর করে স্বভাবতই ৩৫০ এর বেশি লক্ষ্য দাঁড় করায় মনোযোগী ছিল ইংল্যান্ড। রয়ের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে ভূমিকা রেখেছেন জস বাটলার।

আউট হওয়ার আগে বাটলারের ব্যাট থেকে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে ৪৪ বলে ৬৪ রান। এছাড়াও ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অধিনায়ক এউইন মরগ্যান ৩৫, ক্রিস ওকস ১৮ এবং লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট করেছেন ২৭ রান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রানের পুঁজি পায় ইংল্যান্ড শিবির। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে মিরাজ ২টি, সাইফউদ্দিন ২টি এবং মাশরাফি ও মোস্তাফিজুর পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।

৩৮৭ রানের মতো বড় স্কোর তাড়া করে ম্যাচ জেতার অতীত কোনো রেকর্ড নেই বাংলাদেশের। এমন ম্যাচ জেতার জন্য শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার সাথে গড়তে হতো বড় পার্টনারশিপ। কিন্ত এই ম্যাচে বাংলাদেশ দল এই দুইটির মধ্যে একটিও পারেনি। বাংলাদেশ ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই বাংলাদেশ হারায় নিজেদের প্রথম উইকেট। ৮ বলে মাত্র ২ রান করে জোফরা আর্চারের বলে পরাস্ত হয়ে উইকেট ছাড়েন সৌম্য সরকার।

সৌম্যের দ্রুত বিদায়ের কারণে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথমত দ্রুত রান তোলার চাপ তার উপর শুরুতেই ফর্মে থাকা সৌম্যের বিদায়, দুটি মিলে বাংলাদেশের কাছে কঠিনতর হয়ে যায় ম্যাচ জেতা। টুর্নামেন্টে নিজেকে এখনো পর্যন্ত মেলে ধরতে না পারা তামিম ইকবাল এই ম্যাচেও ছিলেন নিস্প্রভ। ইংল্যান্ডের বোলারদের বিপক্ষে উইকেটে যতক্ষণ ছিলেন বেশ অস্বস্তি নিয়েই ব্যাট করেছেন এই ওপেনার।

সাকিব আল হাসান; Source: BCB

দলীয় ৮ রানে প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশ তামিমের উইকেট হারায় দলীয় ৬৩ রানে। মার্ক উডের বলে বিদায় নেওয়ার আগে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ১৯ রান। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই ম্যাচে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার ব্যাটিংয়ে যে সেরা ছন্দে আছেন তার প্রমাণ এই ম্যাচেও বেশ ভালোভাবেই দিয়েছেন।

মুশফিকুর রহিমের সাথে সাকিব জুটি বেঁধে স্কোরবোর্ডে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুললেও প্রতিমুহূর্তেই বাংলাদেশের জন্য চাপের কারণ ছিল, রানরেট বাড়ানোর তাগিদ। উইকেটে যতক্ষণ এই দুই ব্যাটসম্যান ছিলেন ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের ক্ষীণ একটি আশার আলো ছিল। তবে প্ল্যাঙ্কেটের বলে ২৯তম ওভারে মুশফিক আউট হলে, বাংলাদেশের পক্ষে এই ম্যাচ জেতা পুরোপুরি অসম্ভবই হয়ে পরে৷

সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ জুটি; Source: BCB

আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসে ৫০ বলে ৪৪ রান। মুশফিকের বিদায়ের চাপ মুহূর্তেই বাড়িয়ে দেন উইকেটে আসা মোহাম্মদ মিঠুন। স্কোরবোর্ডে নিজের নামের পাশে কোনো রান যোগ না করেই আদিল রশিদের বলে বিদায় নেন এই ব্যাটসম্যান। মিঠুনের বিদায়ের পর উইকেটে আসা মাহমুদউল্লাহর কাছে প্রত্যাশা ছিল সাকিবের সাথে জুটি বেঁধে অতিমানবীয় কোনো ইনিংস খেলার। কিন্ত সেই কাজটা করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ।

বাংলাদেশ ইনিংসের ৩৯.৩ ওভারে বিদায় নেন সেঞ্চুরি করা সাকিব। ১১৯ বল খেলা সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ১২১ রান। সাকিবের বিদায়ের পর আর কোনো বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানই ইংল্যান্ডের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ৪৮.৫ ওভারে ২৮০ রানে অলআউট হয় মাশরাফির বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নিয়েছেন আর্চার ও স্টোকস। ১৫৩ রানের অসাধারণ ইনিংসটি খেলার জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে ওঠে জেসন রয়ের হাতে।

Featured Photo Credit: BCB

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *