বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান: দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, দুই দলেরই বিশ্বকাপ ইতিহাস সম্পূর্ণ আলাদা। এক দল খেলে আসছে বিশ্বকাপের সূচনালগ্ন থেকে আরেক দল সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরে।

Image Source: icc

বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। সেই আসর থেকেই নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছে অস্ট্রেলিয়া। আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে। অভিষেক বিশ্বকাপেই তারা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়। তখন অভিজ্ঞতা ও শক্তির বিচারে অনেকটাই এগিয়ে ছিলও অজিরা। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আসার পূর্বে অজিরা দুই বার ফাইনাল খেলা দল। এক বার চ্যাম্পিয়ন ও এক বার রানার্স আপ হয় তারা।

সর্বশেষ ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মোট সাত বার অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে। পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন ও দুই বার রানার্স আপ হয় তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেমিফাইনাল টপকাতে পারেনি প্রোটিয়ারা।

চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপে এই দুই দল কতবার একে অন্যর বিরুদ্ধে লড়েছে এবং কে কোন ম্যাচ জিতেছে।

২৬শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২(সিডনি)

দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী

১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে গ্রুপ পর্বে  তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। অভিষেক ম্যাচেই বাজিমাত করে আফ্রিকানরা। টসে জিতে ব্যাট করতে নামা অজিদের প্রথম থেকে একের পর এক উইকেট নিতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা।

ওয়েসেলস; Image Source: icc

বিশেষ করে অ্যালান ডোনাল্ড, ব্রায়ান ম্যাকমিলান ও অ্যাড্রিয়ান কুপারের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি অজি ব্যাটসম্যানরা। ফলে ৫০ ওভার ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭০ রান। ডোনাল্ড নেন তিনটি উইকেট এবং ম্যাকমিলান ও অ্যাড্রিয়ান নেন দুইটি করে উইকেট।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। কোনো তাড়াহুড়া না করে ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৪৬ ওভার ৫ বলে জয় তুলে নেয় তারা। অসাধারণ ব্যাটিং করেন ওয়েসেলস, হডসন ও করস্টেন। হডসন ২৮ রানে আউট হয়ে গেলেও ওয়েসেলস ৮১ রান ও করস্টেন ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন। বিশ্বকাপের পথ চলা জয় দিয়ে শুরু করে আফ্রিকানরা।

১৩ই জুন, ১৯৯৯(লিডস)

অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী

সাত বছর পর ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটিতে জয়ের বিকল্প ছিল না অজিদের জন্য। কারণ এই ম্যাচ হারলেই সেমিফাইনালে উঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেত তাদের। গুরত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে টসে হেরে বোলিংয়ে যেতে হয় অজিদের।

হার্শেল গিবল ; Image Source: icc

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা দুর্দান্ত খেলে দলকে বিশাল সংগ্রহ এনে দেন। বিশেষ করে হার্শেল গিবসের দুর্দান্ত শতক ও ড্যারিল কালিনানের অর্ধ শতক তাদের রানের চাকা সচল রাখে। ৫০ ওভার খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭১ রান।

ব্যাটিংয়ে নেমে আফ্রিকান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৪৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কা জাগে অজি শিবিরে। রিকি পন্টিং ও স্টিভ ওয়াহের দুর্দান্ত ব্যাটিং তাদের জয়ের পথে ফিরিয়ে আনে। ৫ উইকেট হাতে রেখে দুই বল বাকি থাকতে জয়ের স্বাদ গ্রহণ অস্ট্রেলিয়া। ওয়াহ ১২০ রানে অপরাজিত থাকলেও পন্টিং ৬৯ রানে আউট হয়ে যান।

১৭ই জুন, ১৯৯৯(বার্মিংহাম)

ম্যাচ টাই

১৯৯৯ বিশ্বকাপে সুপার সিক্সের পর সেমিফিনালে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আরেকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আগের দুইবারের দেখায় সমান জয় নিয়ে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মাঠে নামে দুই দল। তবে সে ম্যাচে মাঠের খেলায় জয় পায়নি দুই দলের কেউই। ম্যাচটি টাই হয়। সুপার সিক্সের রান রেটে অজিরা এগিয়ে থাকায় ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হয় তারা।

ম্যাচটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। স্টিভ ওয়াহর ৫৬ রান ও মাইকেল বেভানের ৬৫ রানের উপর ভর করে সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অজি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে উইকেটে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা।

ক্লুজনার ; Image Source: icc

দুর্দান্ত বোলিং করেন শেন ওয়ার্ন। তিনি একাই শিকার করেন চার উইকেট। আফ্রিকান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রোডস ৪৩ রান ও জ্যাক ক্যালিস করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৩ রান। তবে আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা ক্লুজনারও চেষ্টা করেন ম্যাচ জেতানোর। শেষ উইকেটে নামা অ্যালান ডোনাল্ড ৪৯ ওভার ৪ বলে রান আউট হলে স্কোর লেভেল অবস্থায় সব কয়টি উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অপরাজিত থেকে ১৬ বলে ৩২ রান করেন ক্লুজনার।

২৪শে মার্চ, ২০০৭(সেন্ট কিটস ও নেভিস)

অস্ট্রেলিয়া ৮৩ রানে জয়ী

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২০০৭ সালে চতুর্থ বারের মতো মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বের ম্যাচটিতে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় আফ্রিকা। টসে জিতে ব্যাট না করাটা যে ভুল ছিল তা ষোল আনাই বুঝিয়ে দেন অজি ব্যাটসম্যানরা।

ম্যাথু হেইডেন; Image Source: icc

ম্যাথু হেইডেনের ৬৮ বলের ১০১ রানের ঝড়ো ইনিংস ছাড়াও অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ৪২ রান, রিকি পন্টিংয়ের ৯১ রান ও মাইকেল ক্লার্কের করা ৯২ রানের আক্রমনাত্নক ব্যাটিংয়ে ৩৭৭ রানের বিশাল পুঁজি পায় তারা। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে আফ্রিকানদের দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার গ্রেইম স্মিথ ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। মাত্র ২০ ওভারে প্রথম উইকেট জুটিতে দুইজনে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১৬০ রান।

ডি ভিলিয়ার্স ৯২ রান করে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। তিনি ছাড়াও গ্রায়েম স্মিথ ও জ্যাক ক্যালিস দলের প্রয়োজনে অসাধারণ ব্যাটিং করেন। স্মিথ করেন ৭৪ রান ও ক্যালিস করেন ৪৮ রান। দুর্দান্ত শুরু করলেও ম্যাচ জেতা হয়নি আফ্রিকানদের। ২৯৪ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। হারতে হয় ৮৩ রানের বিশাল ব্যবধানে।

২৫শে এপ্রিল, ২০০৭(সেন্ট লুসিয়া)

অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী

গ্রুপ পর্বের পর ২০০৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারো মুখোমুখি হয় দুই দল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে চার বার মুখোমুখি হয় হয় তারা। চার বারের দেখায় এক ম্যাচ বেশি জিতে পরিসংখানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া।

গ্লেন ম্যাকগ্রা ; Image Source: icc

সে ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে গ্লেন ম্যাকগ্রা ও শন টেইটের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে যায় আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে টেইট নেন ৪ উইকেট এবং ৮ ওভার বল করে ১৮ রান দিয়ে ম্যাকগ্রা নেন ৩ উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে হেইডেনের ৪১ ও ক্লার্কের অপরাজিত ৬০ রানে উপর ভর করে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পোঁছে যায় অজিরা। ৭ উইকেটের বিশাল ব্যাধানে পরাজিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচই ছিল এখন পর্যন্ত দুই দলের বিশ্বকাপে খেলা সর্বশেষ ম্যাচ।

Featured Image Source: ladbrokes.com.au

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *