হঠাৎ ক্যারিয়ার শেষ হওয়া ৫ ক্রিকেটার

দুর্ঘটনা এমন একটি জিনিস যার দ্বারা মুহূর্তের মধ্যেই একটি মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে। ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত খেলা চলাকালীন অনেক দুর্ঘটনাই ঘটেছে। আহত হয়েছেন অনেক ক্রিকেটার। কোনো কোনো ক্রিকেটার গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে থেকে আবারও ফিরে এসেছেন।

আবার কোনো কোনো ক্রিকেটার এতটাই আঘাতপ্রাপ্ত হন যে তার পক্ষে পুনরায় ক্রিকেটে ফেরা সম্ভব হয়নি। ফলে অসময়েই ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় তাদের। আজকের অনুচ্ছেদে তেমনি পাঁচ ক্রিকেটার সম্পর্কে আলোচনা করব যাদের ক্রিকেট ক্যারিয়ার হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।

৫. নরি কন্ট্রাক্টর (ভারত)

নরি কন্ট্রাক্টর ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম তরুণ অধিনায়ক ছিলেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৬১-৬২ সালে ইংল্যান্ডের সাথে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় করে ভারত। এরপরের সিরিজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজে বার্বাডোজ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলার চার্লি গ্রিফিতের করা একটি বল নরি কন্ট্রাক্টরের মাথায় গিয়ে আঘাত হানে। তখন এখনকার মতো হেলমেট ব্যবহার হতো না। ফলে বেশ মারাত্মকভাবে জখম হয়ে সাথে সাথেই তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ছয়দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন নরি কন্ট্রাক্টর।

Image result for nari contractor

নরি কন্ট্রাক্টর; Source CricTracker.com

চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে আবারো ক্রিকেটে ফেরেন তিনি এবং জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছিলেন। যদিও পরে আর সে সুযোগ হয়নি নরি কন্ট্রাক্টরের। অতএব সেই গুরুতর ইঞ্জুরিই নরি কন্ট্রাক্টরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়।

৪. ক্রেগ কাইজওয়েটার (ইংল্যান্ড)

২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ৬৩ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন ক্রেগ কাইজওয়েটার। এরপর থেকেই ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও উইকেটরক্ষক হিসেবে অবিচ্ছেদ্য এক সদস্য হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ক্রেগ।

Related image

ক্রেগ সাইজওয়েটার; Source thehansindia.com

তবে ২০১৪ সালের সমারসেটের পক্ষে ব্যাট করতে নেমে নর্দাম্পটনশায়ার দলের ফাস্ট বোলার ডেভিড উইলির একটি শর্ট-পিচের বাউন্সার বল ক্রেগের হেলমেট ভেদ করে নাক ও চোখে গুরুতরভাবে আঘাত হানে। এরপর ইঞ্জুরি থেকে ফিরে এসে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে প্রাথমিক তালিকায় জায়গা পেলেও অবশেষে তার দৃষ্টির সীমাবদ্ধতার কারণে চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি। এরপর মূলত দৃষ্টি সীমাবদ্ধতার কারণেই ঐ বছরেই মাত্র ২৭ বছর বয়সেই সব ধরনের ক্রিকেট হতে অবসর নেন ক্রেগ কাইজওয়েটার।

৩. মার্ক বাউচার (দক্ষিণ আফ্রিকা)

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা উইকেটরক্ষক মার্ক বাউচার শুধু দলের হয়েই নয়, বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর সময়ে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বেশি স্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ ধরার রেকর্ডের মালিক ছিলেন তিনি। ব্যাট হাতেও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের হয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বাউচার।

Image result for Mark Boucher ক্রিকেটার

মার্ক বাউচার; Source SportsTime24

তবে ২০১২ সালে ইংল্যান্ড সফরে সমারসেটের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ চলাকালীন মোহাম্মদ তাহিরের একটি ডেলিভারিতে সমারসেটের ব্যাটসম্যান জেমাল হোসেন বোল্ড আউট হন। উইকেটের পিছনে থাকা মার্ক বাউচার সানগ্লাস বা হেলমেট না পরায় বোল্ড হওয়ার পর স্ট্যাম্পের উপরে থাকা বেল্ট সরাসরি বাউচারের বাম পাশের চোখে গিয়ে আঘাত হানে এবং তখনি রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

পরে বাউচারের অক্ষিগোলকে অস্ত্রোপচার করতে হয়। অতএব ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার আগেই মার্ক বাউচারকে দেশে ফিরে আসতে হয়। এবং গুরুতর আঘাতের প্রেক্ষিতে ডাক্তারের পরামর্শে ১০ জুলাই ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হতে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন মার্ক বাউচার।

২. আম্বাতি রাইডু (ভারত)

অসাধারণ পারফরম্যান্সের মধ্যে থাকার পরও ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ার কারণেই গত ৩ই জুলাই এক প্রকার নীরব প্রতিবাদ স্বরূপ হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিটি ফরমেট থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন আম্বাতি রাইডু।

২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন রাইডু। এরপর থেকে বেশ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই দলের মিডল অর্ডারে আস্থার প্রতীক হয়ে ছিলেন তিনি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরো বেশি ফোকাস দেওয়ার জন্য প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট হতেও অবসর নিয়েছিলেন রাইডু। এবং ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিজেকে বেশ ভালোভাবেই প্রস্তুত করেছিলেন।

Image result for ambati rayudu

আম্বাতি রাইডু; Source The Hans India

কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ১৫ জনের স্কোয়াডে তো জায়গা পেলেনই না এমনকি স্কোয়াডে থাকা শিখর ধাওয়ান ও বিজয় শঙ্কর ইঞ্জুরিতে পড়া সত্বেও দলে জায়গা পাননি রাইডু। অথচ তাদের পরিবর্তে অনভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার ঋষভ পন্ত ও মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এ সবকিছুর কারণেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। যদিও গত সপ্তাহে ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছে চিঠি দিয়েছেন আম্বাতি রাইডু।

১. জেমস টেলর (ইংল্যান্ড)

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা এবং ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ২১ বছর বয়সেই ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় জেমস টেলরের। অভিষেকের পর থেকে ইংল্যান্ডের টেস্ট ও ওয়ানডে দলে মিডল অর্ডারের আস্থাশীল একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

Related image

জেমস টেলর; Source cricket.com.au

কিন্তু ২০১৬ সালে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন জেমস টেলর। মূলত এআরভিসি অর্থাৎ অ্যারিথমোজেনিক রাইট ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিথমিয়া নামক হার্টের গুরুতর সমস্যার কারণে ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন জেমস। অতএব ২১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করা জেমসের ২৬ বছর বয়সেই ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়।

পাঁচ বছরের সংক্ষিপ্ত ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ৩৪টি ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ১,১৯৯ রান করেন। এবং ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক এউইন মরগানের অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেমস টেলর।

Featured Image Source: SportsTime24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *