ফিরে দেখা: ১৯৮৭ বিশ্বকাপ

১৯৮৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে আয়োজন করে আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপের চতুর্থ আসর। আট দলেের অংশগ্রহণে রাউন্ড রবিন ও নকআউট পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টটি। চার দল করে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং গ্রুপ পর্বে এক দল অন্য দলের সাথে দুইটি করে ম্যাচ খেলে।

১৯৮৭ বিশ্বকাপ ট্রপি; Image Source: cricketfreaks

পুরো টুর্নামেন্টের ২৭টি ম্যাচ ভারতের ১৪টি স্টেডিয়াম ও পাকিস্তানের ৭টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ভারতের ইডেন গার্ডেনে। ঐতিহাসিক ভাবে প্রতিটি দল সাদা পোশাক পরে খেলে এবং বোলিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় লাল বল।

স্বাগতিক দল পাকিস্তান ও ভারত সেমিফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যায়। টুর্নামেন্টের আরেক ফেবারিট দল ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তারাও বাদ পড়ে যায় গ্রুপ পর্বে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন দল জিতে ছিল ১৯৮৭ এর বিশ্বকাপ, আর কারা ছিলেন সেরাদের কাতারে।  

চ্যাম্পিয়ন                                         

অস্ট্রেলিয়া

প্রথম বারের মতো ১৯৮৭ সালে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া। ভারতের ইডেন গার্ডেনে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝে অনুষ্ঠিত হয় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি। উক্ত ম্যাচে ইংলিশদের ৭ রানে পরাজিত করে অজিরা। গ্রুপ পর্যায়ের খেলাগুলোর জন্য ভারত, জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ডের সাথে গ্রুপ ‘এ’ তে ছিল অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়া দল; Image Source: icc

গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে একটি হার ও একটি জয় ছাড়া, বাকি দল গুলোর বিপক্ষে দুইটি করে ম্যাচ জিতে ভারতের সমান ২০ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে নিশ্চিত করে অজিরা। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় তারা। ওই ম্যাচে পাকিস্তানের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ১৮ রানে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখে তারা এবং ফাইনালে ইংলিশদের হারিয়ে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রপি নিজেদের করে নেয়।

সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী

গ্রাহাম গুচ(৪৭১ রান)

১৯৮৭ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষ স্থানে ছিলেন ইংল্যান্ড দলের অন্যতম ব্যাটসম্যান গ্রাহাম গুচ। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচ খেলে ৪৭১ রান করেন এই ইংলিশ ওপেনার। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ গুলোতে ও সেমিফাইনালে অসাধারণ ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডকে ফাইনাল পর্যন্ত খেলানোর পিছনে ব্যাট হাতে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন তিনি।

গ্রাহাম গুচ; Image Source: icc

গ্রুপ পর্বে খেলায় ৩টি অর্ধশতক ও সেমিফাইনালে ১টি গুরত্বপূর্ণ শতক পূর্ণ করেন তিনি। ৩টি অর্ধশতকের দুইটিই করেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, অন্যটি করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৮৪ ও ৬১ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৯২ রান।

আসরের নিজের একমাত্র শতকের দেখা পান সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে। সে ম্যাচে ১১৫ রান করেন তিনি। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ হয় ইংলিশদের। তবে ফাইনাল খেললেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তার দল।

সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি

ক্রেগ ম্যাকডারমট(১৮ উইকেট)

অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম পেস বোলার ছিলেন ক্রেগ ম্যাকডারমট। ১৯৮৭ বিশ্বকাপ ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম ওডিআই বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলে ১৮ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করে নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়াকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন ক্রেগ।

ক্রেগ ম্যাকডারমট; Image Source: smh.com.au

বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের খেলায় ৪ উইকেট শিকার করেন অজি ডানহাতি ফাস্ট বোলার। গ্রুপ পর্বের ভারতের সাথে দ্বিতীয় খেলায় আরও ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। গ্রুপ পর্বের দুই বারের দেখায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ উইকেট এবং নিউজিল্যান্ডের সাথে দুই খেলায় ২ উইকেট শিকার করেন তিনি।

বিশ্বকাপে তার সেরা বোলিং ফিগার ছিল সেমি ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ১০ ওভার বল করে ৪৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন টিকে থাকে অজিদের। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ১ উইকেট শিকার করেন।

সর্বোচ্চ ইনিংস

ভিভ রিচার্ডস(শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮১ রান)

১৯৮৭ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ১৮১ রান করেন উইন্ডিজের তারকা ব্যাটসম্যান ভিভ রিচার্ডস। যা সেই সময়ে বিশ্বকাপ ইতিহাস করা সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রানের রের্কড গড়ে। এর আগে বিশ্বকাপ আসরে করা সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান ছিল ভারতের কপিল দেবের। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭৫ রানে অপারাজিত থেকে সে রেকর্ড করেন তিনি।

ভিভ রিচার্ডস; Image Source: icc

১৯৮৭ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শ্রীলঙ্কার সাথে প্রথম খেলায় টসে হেরে ব্যাটিং করতে হয় উইন্ডিজদের। লঙ্কানদের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে মাত্র ৪৫ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়তে তাদের। তৃতীয় উইকেটে মাঠে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে উইন্ডিজদের বিশাল সংগ্রহ এনে দেন রিচার্ডস। তার অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ৩৬০ রানের বিশাল পুঁজি পায় উইন্ডিজরা।

রিচার্ডস সে ম্যাচে মাত্র ১২৫ বল খেলে ১৬ চার আর ৭ ছয়ে ১৮১ রান করেন। যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়তে সাহায্য করে। ওই ম্যাচ উইন্ডিজরা জয় লাভ করে এবং তিনি ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ পুরষ্কার পান।

সেরা বোলিং ফিগার

ক্রেগ ম্যাকডারমট(পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫/৪৪)

১৯৮৭ বিশ্বকাপে ১৮ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন ক্রেগ ম্যাকডারমট। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ বোলিং করে অজিদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন সহজ করে দেন তিনি। বিশেষ করে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনি দুর্দান্ত বোলিং করেন। যা ছিল ওই আসরের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড।

ক্রেগ ম্যাকডারমট; Image Source: icc

ম্যাকডারমট ওই ম্যাচে ১০ ওভার করে ৪৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন। মনসূর আখতার, ওয়াসিম আকরাম, সালীম ইউসুফ, সালীম জাফর ও তৌসিফ আহমেদ তার শিকার হন।

Featured Image Source: sportskeeda.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *